meghalay and bombay highcourtMiscellaneous 

দুই হাইকোর্টের শীর্ষে ২ বাঙালি

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বোম্বে ও মেঘালয় হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি হলেন ২ বাঙালি। সুপারিশ করল সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম। কলকাতা হাইকোর্টের জন্যে সন্তোষজনক খবর। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের কাছে পাঠান সুপারিশ অনুযায়ী বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে মনোনীত করল কলেজিয়াম।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু সুপ্রিম কোর্টে রয়েছেন। তবে দেশের কোনও হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি পদে কলকাতা হাইকোর্টের কেউ নেই। এবার সেই শূন্যতা পূরণ হল। সূত্রের আরও খবর, বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার বর্তমানে এলাহাবাদ হাইকোর্টে কর্মরত। ২০১৯ সালের শেষের দিকে কয়েক মাসের জন্য তিনি কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন কলকাতার অধীনে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ চালু হয়েছিল।

অন্যদিকে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টে এই সময়ে দ্বিতীয় সিনিয়র বিচারপতিও। জানা গিয়েছে, এই দুই বাঙালি আইন পাশ করার পর ১৯৮৯ সালে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে কাজ শুরু করেছিলেন। এরপর ২০০৬ সালের ২২ জুন একইসঙ্গে একইদিনে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিও হন। পাশাপাশি বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার সিঙ্গেল বেঞ্চে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য প্রথম কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার নির্দেশও দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চ খারিজ করলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সেই নির্দেশই বহাল রেখেছিল।

আবার ডিভিশন বেঞ্চে বসে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও সুষ্ঠ-অবাধ ও রক্তপাতহীন ভোট করানোর জন্য ই-মেলে মনোনয়নের নির্দেশও দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন হাই পাওয়ার কমিটি যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্বেও সুব্রত চক্রবর্তীকে ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড (ইসিএল)-এর সিএমডি না করায় ওই আধিকারিক মামলা করেন হাইকোর্টে। ওই মামলায় বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ে সিএমডি হয়েছিলেন ওই আধিকারিক।

অন্যদিকে বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের পর বোম্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন আরও এক বাঙালি আইনজীবী। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একাধিক স্পর্শকাতর মামলায় রাজ্যের শাসক-ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বিশেষ পরিচিত হন বিভিন্নমহলে। বীরভূমের পাড়ুইয়ের ঘটনা, ‘পুলিশকে বোমা মারা’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলা শুনেছেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। পরে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দিয়েছিলেন।

আবার ট্রাফিক আইন ভঙ্গে গাড়ির ব্লু-বুক নিয়ে নেওয়া পুলিশের বেআইনি কাজ বলে মত দিয়েছিলেন দীপঙ্করবাবু। পাশাপাশি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রকে সেই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অ্যাডমিশন টেস্ট কেন দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে ওই ব্যবস্থা বাতিল করেন। অ্যাসিড আক্রান্তদের সরকারি সাহায্য ও চিকিৎসার ব্যাপারে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে আইনজীবীমহলে। স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথোরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে হাই পাওয়ার কমিটির শীর্ষে থেকে বর্তমান করোনাজনিত পরিস্থিতিতে বন্দিমুক্তিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে তাঁর।

Related posts

Leave a Comment