পাশ-ফেল থাকা না থাকা নিয়ে জোর চর্চা

education and student

সম্প্রতি খুব চর্চায় রয়েছে বিষয়টি । তাই এই বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা করি। স্কুলের শুরুতেই পড়াশুনার ভিত মজবুত করতে হবে। যেমন-বাড়ির ভিত যত শক্ত হবে সেই বাড়ি তত মজবুত হবে। বর্তমান সময়ে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল থাকা,না থাকা নিয়ে জোর চর্চা চলেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ বলছেন,পাশ-ফেল প্রথা চালু হলে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়বে। গরিব ও প্রান্তিক পড়ুয়াদের মধ্যে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়লে সমাজের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হবে। অন্য একটি পক্ষের মতে,যদি পাশ-ফেল না থাকে তাহলে নবম-দশম শ্রেণিতে গিয়ে পড়ুয়ারা সমস্যার মুখোমুখি হবে। পাশ-ফেল না থাকলে পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ে। পাশাপাশি পড়াশুনার ভিতটাও শক্ত না হয়ে দুর্বল হয়ে যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা পাশ করলো, না ফেল করলো সেটা না জেনেই ওপরের ক্লাসে উঠে যায়।
এরফলে প্রকৃত অর্থে পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ ঘটে না। ভালো নম্বর না পেয়েও ক্লাসে উঠে গেলে শিক্ষার মূল্যায়ন সঠিক পথে থাকে না বলে বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মত। মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে গা-ছাড়া মনোভাব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। গ্রামীণ একটি প্রচলিত কথা রয়েছে,”কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। “কী কারণে এই কথা বলছি-গ্রাম ও শহরাঞ্চলে প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে পড়াশুনা করছে। মেধাবী অনেক পড়ুয়া রয়েছে তারা পাশ-ফেলের পক্ষে। স্কুলে পড়াশুনার মান ধরে রাখতে গেলে পাশ-ফেল জরুরি। একদিকে শিক্ষার মান অন্যদিকে শিক্ষক-অভিভাবকদের কড়া অনুশাসন থাকবে । আর নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দ থাকবে। পড়াশুনার ক্ষেত্রে সামনে কোনও লক্ষ্য না থাকলে পড়াশুনার ইচ্ছেটাই যে হারিয়ে যায় !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *