আদা চাষে স্বনির্ভরতা

glinger

চাকরির বাজার সঙ্কুচিত। আর আছে তীব্র প্রতিযোগিতা। সবাই যে চাকরি পাবেন তার নিশ্চয়তা নেই। কিছুটা আয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারেন চাষ আবাদে মনোনিবেশ করলে। একটা চাষ নিয়ে একটু চর্চা করি আসুন। বাড়িতে স্বল্প জমি থাকলে বা ছাদেও এই চাষ করা যায়। আদা চাষ করে বাড়িতে যেমন ব্যবহার করতে পারবেন তেমনি বিক্রিও করতে পারবেন। বস্তায় আদা চাষ করে আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বনির্ভর হতে পারবেন। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বস্তায় আদা চাষ করতে হলে সাধারণত মার্চ মাসের শেষের দিকে আদার বীজ লাগানো হয়। প্রথমে মাটি বস্তায় ভরে রাখার কাজ শুরু করতে হবে। মাটি তৈরি করার পদ্ধতিটা হল-
এক একটি বস্তায় ৩ ঝুড়ির মতো মাটি সহ মিশ্রণ প্রয়োজন হয়। মাটির সঙ্গে বালি, পচা গোবর সার, এক কেজি পরিমাণ ছাই ও ২৫ গ্রাম ফিউরিডন প্রয়োজন হয়। ফিউরিডন উইপোকার উপদ্রব থেকে রক্ষা করে তাই এটা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে ।
মাটির সঙ্গে গোবর, বালি ও ফিউরিডন ভালো করে মিশ্রণ করে সিমেন্টের বস্তায় ভরতে হবে। মিশ্রণটি ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। আলাদা একটি বালি ভর্তি টবে অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। এক মাসের মধ্যেই আদা থেকে গাছ বের হবে। এরপর আদার চারা তুলে বস্তায় মাটির ভিতরে বসাতে হবে। প্রায় ৩ ইঞ্চি গভীরতায় গাছ বসাতে হবে। বীজ বসানো হয়ে গেলে মাটি দিয়ে তা ঢেকে দিতে হবে। বাড়ির ছাদে,পরিত্যক্ত কোনও জায়গায় ও বাড়ির ফাঁকা স্থানে এই চাষ করা যেতে পারে । চারা লাগানোর ২ মাস পর স্বল্প সরিষার খৈল ও অল্প পরিমান ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে মাটিতে। মাঝে মধ্যে মাটি খুঁড়ে আলগা করে দিতে হবে। মার্চ মাসে বীজ রোপন করলে ফসল সংগ্রহ করতে পারবেন জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ। মনে রাখবেন, বস্তা থেকে আদা তোলার সময় হলে আদা গাছের পাতা ক্রমশ হলুদে হয়ে যায়। সময় মতো তা তুলে মাটি ঝেড়ে ও শিকড় পরিস্কার করে ব্যবহার করতে পারেন। আপনার এলাকায় স্থানীয় বাজার রয়েছে সেখানে বিক্রির জন্য পাঠাতে পারেন বা ঘরে ব্যবহার করতে পারেন। সমস্যার বিষয়গুলি নিয়ে বা এই চাষ সম্পর্কে স্থানীয় নার্সারি বা কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *