কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: প্যানডেমিকে সাহায্য করতে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, তা বাজেটেও দেখতে চান। সূত্রের খবর, মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার জন্য করোনা আবহে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। উল্লেখ করা যায়,
সোমবার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ হতে চলেছে। ব্যবসায়ী থেকে চাকরিজীবী সবারই নজর থাকবে বাজেটের উপর। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২১সালে প্রভাব ফেলতে পারে প্যানডেমিক পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সাজানো হতে পারে বাজেটের বিষয়গুলি। ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ এমনটাই জানিয়েছেন।
এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগ, বরাদ্দকৃত অর্থ ও স্বাস্থ্য খাত, এই সবেতেই পরিবর্তন আনতে পারে প্যানডেমিক। আসন্ন বাজেটেও তার প্রভাব দেখা যেতে পারে। মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েক মাসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। যা সরকারের একটি ভালো পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে তাঁর আরও বক্তব্য,এই অবস্থায় ক্যাপিটাল আয় বাড়ানোর জন্য ভালো সময় ব্যাঙ্ক ও নন-ব্যাঙ্কিং ফিনানসিয়াল কোম্পানিগুলির। আর মাথায় রাখতে হবে, প্যানডেমিক পরিস্থিতি চলে গেলে কিন্তু নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ বাড়বে। এমনকি আরবিআইও সেই পরিকল্পনার কথাই ভাবছে। তবে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির সরকারের সাহায্য লাগতে পারে। এসব কিছু মাথায় রেখে পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্পেন্ডিংয়ে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ আরও জানিয়ে ছেন,পাবলিক ইনভেস্টমেন্টে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্যখাতের দিকে নজর দিতে হবে। দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পরিস্থিতি বোঝা গিয়েছে। করোনা আবহে সব চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যখাতেই খরচা হয়েছে মানুষের। এক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য দিতে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প জারি রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন,অর্থনীতি চাঙ্গা করতে জিএসটি-র দিকে নজর দিতে হবে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্র থেকে জিএসটি তোলার চেষ্টা করতে হবে। প্রসঙ্গত, দ্য ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ডের পক্ষ থেকে একটি নথি প্রকাশ করা হয়। তাতে জানানো হয়, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে ২০২১সালের ৮ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২২সালে তা বেড়ে হতে পারে ১১.৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর জন্য একাধিক বিষয় শিথিল করার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে গীতা গোপীনাথ আরও জানিয়েছেন, কোভিডের ফলে দেশের বেশ কিছু ক্ষেত্রে বেকারত্ব বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বেকারত্ব বেড়েছে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় তাও এই বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে। এবং বেকারত্ব কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

