TEETHMiscellaneous Trending News 

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় আয়ুৰ্বেদিক দাওয়াই

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আয়ুৰ্বেদিক মতে, আমাদের মুখের ৬৫ প্রকার রোগের উল্লেখ করা রয়েছে। এ বিষয়ে আচার্য বাগডট বেশ কিছু নীতি মেনে চলার কথা বলেছেন। যা নিয়মিত পালন করলে সহজেই প্রাকৃতিক উপায়ে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা যাবে।
মুখপ্রক্ষালন- আয়ুৰ্বেদ মতে জলের ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুলে কিংবা মুখের মধ্যে জল নিয়ে বাইরে থেকে জলের হালকা ঝাপটায় মুখ ধুলে সেটি আমাদের চোখের পক্ষেও ভালো। এরফলে মুখের পেশি সবল ও দাঁতের পক্ষেও উপকারী।
দন্তধাবন- আয়ুৰ্বেদিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দন্তধাবন অর্থাৎ ভেষজ গুণ সম্পন্ন মাজন বা তিক্তপ্রধান ও কটু রস সমৃদ্ধ ভেষজ উপাদান দিয়ে ব্রাশ করা গেলে দাঁতের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। আবার নিম, অর্জুন ও বাবলা গাছের সরু ডাল দাঁত মাজার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
জিহ্বা নির্লেক্ষণ- আয়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে জিহ্বা নির্লেক্ষণ বা জিভ ছোলা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তামাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। আবার জিভ ছোলা ব্যবহার করার আগে দেখতে হবে সেটি যাতে ধারালো না হয়। নিয়মিত দিনে দু’বার জিভের দূষিত ময়লা পরিষ্কার করতে জিভ ছোলা ব্যবহার করা উচিত।
নস্য কর্ম- আয়ুৰ্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, নস্য কর্ম ‘নাসাহি শিরোদ্বারম’ অর্থাৎ মস্তিষ্কের দ্বার হল নাক। এটি নাক, মাথা, গলার বিভিন্ন সমস্যার সাথে মুখের রোগের জন্যও বিশেষভাবে উপকারী। রোজ নিয়ম করে নস্য প্রয়োগের ফলে সাইনাসের সমস্যাও ঠিক করা যায়। নাকের সাহায্যে দূষিত আবর্জনা যাতে শরীরে প্রবেশ করতে না পারে বা প্রবেশ করলেও যাতে সমস্যা না হয় সেটিরও খেয়াল রাখা হয়।
কুলকুচি করা- মুখের যাবতীয় রোগ প্রতিরোধে ‘করল’ বা কুলকুচি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এক্ষেত্রে ঔষধিগুণ যুক্ত ভেষজের নিযার্স বা ক্কাথ সহযোগে কুলকুচি করার বিধান রয়েছে।
লবণ জলের গার্গেল করার মতোই এটি করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত সাধারণ জলে বা সপ্তাহে একদিন ত্রিফলা জলে কুলকুচি করা হলে মুখের ভিতরের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

আবার মুখের স্বাস্থ্যরক্ষায় ঘরোয়া মুষ্টিযোগও রয়েছে।
ত্রিফলা মাউথওয়াশ- পায়েরিয়ার সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের দাঁতের গোঁড়া ফুলে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে রক্তও পড়ে। এক্ষেত্রে ত্রিফলার ক্কাথ দিয়ে নিয়মিত গণ্ডুষ করলে উপকার পাওয়া যায়।
লবঙ্গ তেল- দাঁতের যন্ত্রনায় কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল তুলোয় নিয়ে ব্যথার স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
মধু ও হলুদ- জিভে ঘা হলে বা মুখের ভিতর গোল হয়ে লালচে ভাব দেখা দিলে সেক্ষেত্রে মধু ও হলুদ মিশিয়ে প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে। তবে ঘা পুরনো হলে বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মেহেন্দি পাতা- মেহেন্দি পাতা সিদ্ধ জলে কুলকুচি করলে মুখের প্রাথমিক পর্যায়ের ক্ষত ও গলার ক্ষত নিরাময় হয়। পাশাপাশি পায়েরিয়ার ক্ষেত্রেও ফল মেলে।

Related posts

Leave a Comment