chakrapani duttaMiscellaneous 

হাজার বছর পূর্বেই আইসোলেশনের কথা বলেছিলেন এক বাঙালি

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের আক্রমণে লকডাউন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং – এই সমস্ত শব্দগুলো এখন আমাদের রোজকার জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অনেকেরই জানা নেই, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এবং আইসোলেশন সম্পর্কে প্রায় হাজার বছর আগে প্রথম বুঝিয়েছিলেন একজন বাঙালী। নাম চক্রপাণি দত্ত — যিনি একজন প্রসিদ্ধ বাঙালী চিকিৎসক এবং গ্রন্থপ্রণেতা। একাদশ শতকের গোড়ার দিকে ময়ূরেশ্বর গ্রামে যা বর্তমান বীরভূমের অন্তর্গত লোধ্রবলী কুলীন বংশে তাঁর জন্ম বলে অনেকেরই ধারণা। তাঁর পিতা নারায়ণ দত্ত তৎকালীন পালরাজা গৌড়রাজ নয়পালের রন্ধনশালার অধ্যক্ষ ছিলেন।

চক্রপাণি দত্ত মহাশয় প্রথম জনসমক্ষে আসেন প্রাচীন ভারতীয় দুই প্রবাদপ্রতিম চিকিৎসক চরক ও সুশ্রুতের লেখা সংহিতা দুটির অনুপুঙ্খ টীকা রচনা করে। গ্রন্থদুটি হল – ‘চরকতত্ত্বপ্রদীপিকা’ এবং ‘ভানুমতী’। দুটি গ্রন্থতেই চরক ও সুশ্রুতের দেওয়া নিদানের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে জীবাণুঘটিত সংক্রামক রোগে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি তিনি বিশদে ব্যাখ্যা করেন। তিনি মানব শরীরের রোগের তিন প্রকার কারণের কথা বলেছেন। যারমধ্যে অন্যতম, ‘অভিষঙ্গজ হেতু’ — যার অর্থ ভাইরাসের আক্রমণ। এই অভিষঙ্গজ বিষয়ে ‘সুশ্রুত সংহিতা’-র ৬ নং অধ্যায়ের ৩২ ও ৩৩ নম্বর শ্লোকে রয়েছে, ‘‘প্রসঙ্গাদ গাত্রসংস্পর্শাৎ নিশ্বাসাৎ সহভোজনাৎ।/ সহশয্যাসনশ্চাপি বস্ত্রমাল্যানুলেপনাৎ।’’ — শ্লোক দুটির অর্থনির্ণয় প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, জীবাণু আক্রান্তকে ছোঁয়ার মাধ্যমে বা তার হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে অথবা একই থালায় খাওয়া, তাঁর সঙ্গে বসবাস কিংবা একই বিছানায় শোওয়া হলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এভাবেই রোগ একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক থাকাই বাঞ্ছনীয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে একেই আমরা আইসোলেশন বলে জানি।

চক্রপাণি দত্ত পরবর্তীকালে নিজের মৌলিক গ্রন্থগুলিতেও (চিকিৎসাসংগ্রহ, দ্রব্যগুণ ও সর্বসারসংগ্রহ) একই বিষয় আলোচনা করেছেন। তিনি ‘চরকচতুরানন’ ও সুশ্রুতসহস্রনয়ন’ উপাধি পেয়েছেন। তিনি কেবল আয়ুর্বেদ চর্চাই করতেন না পাশাপাশি একজন বিশিষ্ট রসায়নবিদ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্র ছাড়াও তিনি ব্যাকরণ ও ন্যায়দর্শন সম্পর্কিত বহু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

Related posts

Leave a Comment