satyajit-ray1Miscellaneous 

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন সত্যজিৎ রায়

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: জন্মশতবর্ষে পদার্পণ করলেন সত্যজিৎ রায়। ১৯২১ সালের ২ মে তাঁর জন্ম হয়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক, অঙ্কনশিল্পী হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি ছিল। ১৯৫৫ সালে “পথের পাঁচালি” প্রথম ছবি দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর জয়যাত্রা। নিজের কাহিনী নিয়ে সত্যজিৎ রায় প্রথম ছবি করেছিলেন ১৯৬২ সালে। ছবির নাম “কাঞ্চনজঙ্ঘা”। এটিই তাঁর প্রথম রঙিন ছবি।

১৯৫৮ সালে “জলসা ঘর” প্রযোজনা করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে “অপুর সংসার”। সত্যজিৎ রায় প্রোডাকশন ব্যানারে নিজস্ব প্রথম ছবি ছিল এটি। গীতিকার হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ১৯৬০ সালে “দেবী” ছবিতে। আবার সত্যজিৎ রায় নিজের ছবির বৃত্তের বাইরে চিত্রনাট্য, উপদেষ্টা ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন ১৯৬৫ সালের নিত্যানন্দ দত্ত পরিচালিত “বাস্ক বদল” ছবিতে। এছাড়া সন্দীপ রায়ের “ফটিকচাঁদ” (১৯৮৩), “গুপী বাঘা ফিরে এল” (১৯৯৩)- এ কাহিনীকার, গীতিকার ও সুরকারের ভূমিকাতে তিনি ছিলেন।

অন্যদিকে, একাধিক তথ্যচিত্র করেছেন সত্যজিৎ। ১৯৬১ সালে “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর”, “সিকিম” (১৯৭১), “ইনার আই” (১৯৭৪), “বালা” (১৯৭৬), “সুকুমার রায়” (১৯৮৭) প্রভৃতি। পাশাপাশি তথ্যচিত্রে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বংশী গুপ্ত পরিচালিত “দার্জিলিং: হিমালয়ান ফ্যান্টাসি”, “গঙ্গাসাগর মেলা” প্রভৃতি তথ্যচিত্রে সুরারোপ করেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে “অপরাজিত” (১৯৫৬), “জলসা ঘর” (১৯৫৮), “পরশ পাথর” (১৯৫৮), “অপুর সংসার” (১৯৫৯), “দেবী” (১৯৬০), “কাঞ্চনজঙ্ঘা” (১৯৬২), “অভিযান” (১৯৬২), “মহানগর” (১৯৬৩), “চারুলতা” (১৯৬৪), “নায়ক” (১৯৬৬), “চিড়িয়াখানা” (১৯৬৭), গুপী গায়েন বাঘা বাইন” (১৯৬৯), “অরণ্যের দিনরাত্রি” (১৯৭০), “প্রতিদ্বন্দ্বী” (১৯৭০), “অশনি সংকেত” (১৯৭৩), “সোনারকেল্লা” (১৯৭৪), “জন অরণ্য” (১৯৭৫), “হীরক রাজার দেশে” (১৯৮০), “গণশত্রু” (১৯৯০), “আগন্তুক” (১৯৯২)।

অন্যদিকে, হিন্দি ছবিও করেছিলেন ১৯৭৭ সালে। ছবির নাম “শতরঞ্জ কে খিলাড়ি”। জানা যায়, সত্যজিত রায়ের ১৪টি কাহিনীচিত্রে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আবার উত্তমকুমারকে নিয়ে করেছিলেন “নায়ক” ও “চিড়িয়াখানা”। যতদূর জানা যায়, তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ছিল ১৯৯২ সালে “আগন্তুক”। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় প্রয়াত হন সত্যজিৎ রায়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে সম্মানিত হন অস্কার পুরস্কারে।

দেশ-বিদেশ মিলিয়ে বহু সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন পরিচালক ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সত্যজিৎ রায়। “পথের পাঁচালি” ১৩টি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিল। জন্মশতবর্ষে আজও অম্লান রয়েছে সত্যজিৎ ও তাঁর কাজ।

Related posts

Leave a Comment