রংধামালিতে দেবী-দুর্গা “বনদুর্গা” হিসেবে পূজিত
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক:কৈলাস যাওয়ার পথে একটি স্টপেজ পড়বে রংধামালি। ১৩৮ বছরে পদার্পন করল উত্তরের এই দুর্গাপুজো।
স্থানীয় মানুষরা আজও বিশ্বাস করেন কৈলাস যাওয়ার পথে তিস্তাপারের বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গল পড়বে,সেখানেই পা রেখেছিলেন দেবী দুর্গা। সেই কারণেই এই অকালবোধন হয়ে থাকে। দেবী এখানে বনদুর্গা হিসেবে পূজিত হয়ে থাকেন।স্থানীয় সূত্রের খবর, কৈলাসে গমন করেছেন দেবী। তবে রংধামালিতে মায়ের আবির্ভাব ঘটে। শহরের জৌলুস না থাকলেও এখানে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন সাধারণ মানুষ। পুজো যখন শেষ সেই সময় রংধামালিতে পুজোর আয়োজন। এখানে প্রতি বছর তিথি ওনিয়ম বিধি মেনে পুজোর আয়োজন হয় । এবছর পুজোর তিথি ৫ নভেম্বর ৷ পাহাড়পুর, বেলাকোবা, পাতকাটা অঞ্চলের গ্রামীণ মানুষ এই পুজোতে অংশ নিয়ে থাকেন। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, জঙ্গল দিয়ে মোড়া রংধামালিতে একসময় বাঘের উপদ্রব দেখা যেত। অনেক মানুষের প্রাণ চলে যেত বাঘের থাবায়। এরপর বনদুর্গার পুজোর আয়োজন হয়েছে।
এই বনদুর্গার পুজো হয় দুর্গাপুজোর সনাতন রীতি মেনেই । ৪ দিন ব্যাপী চলে পুজোর আয়োজন। পাশাপাশি দশভূজার পাশে পূজিত হয়ে থাকে শ্যামাকালীর মূর্তিও। আবার পুজোর ৪ দিন এই এলাকায় একটি মেলাও বসে থাকে। স্থানীয় ভাবে কথিত রয়েছে,বনদুর্গার পুজোর মেলায় বিক্রি হওয়া শাঁখা পরলে মেয়েদের স্বামীর আয়ু বাড়ে। এটাই বিশ্বাস মহিলা মহলে। এক্ষেত্রে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে- উত্তরবঙ্গে যা বনদুর্গা, সুন্দরবনে তা হল বনবিবি। স্থানীয়ভাবে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ রায়ের পরাজয় বলতে এখানে বাঘ বা অপশক্তির পরাজয় বলা হয়ে থাকে । অনেকে মনে করেন, হিন্দু বনদুর্গাই ইসলামিক প্রভাবে বনদেবীতে রূপান্তরিত। সৌভাতৃত্বের চিহ্নও ফুটে ওঠে এই দেবীর পুজোতে। এবার বনদেবীর এই পুজোয় আয়োজন হয়েছে। তবে আড়ম্বর একেবারেই নেই। করোনা আবহে আয়োজন কমানো হয়েছে। রাজ্যের দুর্গাপুজোর মতই বন্ধ রাখা হয়েছে সব রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুসময় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন সেখানকার মানুষ।

