Bankura_Tehsil_map-bnMiscellaneous Trending News 

নির্বাচনী পরিক্রমা – আজকের জেলা বাঁকুড়া

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বাংলার ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৮ দফা ভোট গ্রহণ পর্ব চলবে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভোট গ্রহণ কেন্দ্র সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬ টি। একুশের এই নির্বাচনে জেলাওয়াড়ি একঝলক ভোট চিত্র তুলে ধরছি আমরা।

এবারের জেলা বাঁকুড়া: এই জেলায় বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ১২টি। কেন্দ্র গুলি হল-বাঁকুড়া, বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর, ছাতনা, শালতোড়া, সোনামুখী, ইন্দাস, কোতুলপুর, তালড্যাংরা, রায়পুর, রানীবাঁধ, ওন্দা।

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট: প্রথম দফা (২৭ মার্চ)। ওই দিনে ভোট গ্রহণ হবে যে সব কেন্দ্রে- শালতোড়া, ছাতনা, রানিবাঁধ ও রায়পুর। দ্বিতীয় দফা (১ এপ্রিল)। ওই দিনে ভোট গ্রহণ হবে যে সব কেন্দ্রে- তালড্যাংরা, বাঁকুড়া, বড়জোড়া, ওন্দা, বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস ও সোনামুখী।

গত বিধানসভা নির্বাচনে যে চিত্র ছিল তা একনজর। বিধানসভা কেন্দ্র ও বিজয়ীরা হলেন: বাঁকুড়া – শম্পা দরিপা (কংগ্রেস), বড়জোড়া – সুজিত চক্রবর্তী (সিপিএম), বিষ্ণুপুর – তুষার ভট্টাচার্য (কংগ্রেস), ছাতনা – ধীরেন্দ্রনাথ লায়েক (আরএসপি), শালতোড়া – স্বপন বাউরি (তৃণমূল), সোনামুখী – অজিত রায় (সিপিএম), ইন্দাস – গুরুপদ মেটে (তৃণমূল), কোতুলপুর – শ্যামল সাঁতরা (তৃণমূল), তালডাংরা – সমীর চক্রবর্তী (তৃণমূল), রায়পুর – বীরেন্দ্রনাথ টুডু (তৃণমূল), রানিবাঁধ – জেৎস্না মান্ডি (তৃণমূল), ওন্দা – অরূপ খাঁ (তৃণমূল)।

যে সব বিধায়ক দল বদল করেছেন তাঁরা হলেন – বাঁকুড়ার বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। বিষ্ণুপুরের বিধায়কও কংগ্রেস ছেড়ে প্রথমে তৃণমূলে যোগ দেন। পরে বিজেপিতে এলেও ফের তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ছাতনার বিধায়ক আরএসপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ইন্দাস বিধানসভার বিধায়ক করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন।

জেলা-পরিক্রমা করে স্থানীয় মানুষদের যে দাবি উঠে এসেছে তা হল- পানীয় ও সেচের জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প পরিকাঠামো, হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান এলাকার মানুষ, সোনামুখীতে বাইপাস ও বাঁকুড়া শহরে যানজট সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ চায়।

উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে- পানীয় জলের সমস্যা অনেকটাই মিটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বড় রাস্তার সংস্কার, কংসাবতী নদীর উপর ব্রিজ, ফুলকুসমায় ভৈরববাঁকি নদীর উপর ব্রিজ, ব্লকে -ব্লকে আইটিআই, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাজানো হয়েছে মুকুটমণিপুর, বিষ্ণুপুর ও শুশুনিয়া। দুর্লভপুরে উড়ালপুল নির্মাণ হয়েছে। বিষ্ণুপুর, ছাতনা, ওন্দা ও বড়জোড়ায় সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। এছাড়াও বাউরি,কুর্মি ও আদিবাসীদের নিয়ে গঠন হয়েছে পরিষদ।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন মানুষের বিভিন্ন অভিযোগও। এই জেলায় স্থানীয় একটা অংশের মানুষের বক্তব্য, তৃণমূল নেতাদেরই শুধু উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নত হয়নি। জঙ্গলমহলে একাধিক সমস্যা রয়েই গিয়েছে। পাশাপাশি জেলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। অন্য একটি মহলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ টাকায় তৃণমূল নেতাদের নাম প্রচার হচ্ছে। পানীয় জলের পাইপ পোতা হলেও গ্রামে জল পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ। আবার জেলার বিভিন্ন ব্লকে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় স্তরে জানা গিয়েছে।

খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে দাঁড়াবেন।

Related posts

Leave a Comment