পথ খুঁজে পারাদ্বীপ
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : (পরবর্তী অংশের পর) কোথায় থাকবেনঃ পারাদ্বীপে অনেক দামি ও বাজেট ক্যাটাগরির বেসরকারি হোটেল রয়েছে। তবে সেগুলি সবই সমুদ্র থেকে অনেক দূরে শহরের মধ্যে। থাকার সবচেয়ে ভাল উপায় সমুদ্রের পাশে ওড়িশা সরকারের পান্থনিবাস। একদম বিচের পাশেই ৫ মিনিট হাঁটা পথে। রাস্তা পেরোলেই ঝাউবন তারপরই সমুদ্র সৈকত। যোগাযোগের ফোন নাম্বার ও এসি / নন-এসি রুমরেট ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে। শুধু একটা তথ্য। একমাত্র পারাদ্বীপ পান্থনিবাসে ডে ভিজিট (সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) অনুযায়ী রুম ভাড়া পাওয়া যায়। ২৪ শতাংশ ডিসকাউন্ট এক্ষেত্রে। পান্থনিবাসের রুমের চাহিদা খুবই লক্ষ্য করেছিলাম আমাদের সফরের সময়।
কী খাবেনঃ পারাদ্বীপে স্পেশাল হল খুরান মাছ। সামুদ্রিক মাছ। অনেকটা পমফ্রেট মাছের মতো রান্নার পর। খেতে অসাধারণ।
ট্রিপ প্ল্যানঃ পারাদ্বীপে অবশ্যই দু-দিনের জন্য আসবেন। প্রথমদিন পৌঁছে সমুদ্র স্নান করা, সমুদ্র সৈকত এক্সপোর করা থেকে বিকেলে লাইট-হাউস দেখে দিন কাটানো। দ্বিতীয়দিন পুরো পারাদ্বীপ ঘুরে বেড়ানো (সাইটসিন)।
কী-কী দেখবেনঃ (১) পারাদ্বীপ সমুদ্র সৈকত, (২) লাইট-হাউস (বিকেল ৫ থেকে ৫.৩০), (৩) মেরিন একোরিয়াম, (৪) পারাদ্বীপ পোর্ট, (৫) হনুমান মন্দির, (৬) জগন্নাথ মন্দির, (৭) কপিল মুনির আশ্রম, (৮) ডিয়ার পার্ক, পারাদ্বীপ থেকে ১২ কিমি দূরে, (৯) রকি বিচ মোহনা- মহানদী সমুদ্রে মিশেছে, (১০) ফিশিং হারবার এবং (১১) নেহেরু বাংলো ও মিউজিয়াম।
উল্লেখ্য কিছু কথাঃ পারাদ্বীপে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বারা পোর্ট ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। মোহনা হল পারাদ্বীপের রকি বিচ নামে পরিচিত। এখানে মহানদী সাগরে মিশেছে। ট্রলারগুলি এই রাস্তা দিয়েই সাগরে যায়। খুব সুন্দর একটা জায়গা। ঘন্টার পর ঘন্টা পাথরের ওপর বসে দূরে সাগরের ঢেউ কিম্বা মহানদীর জল পাথরে আছড়ে পড়ছে দেখতে দেখতে সময় কেটে যাবে। পারাদ্বীপ সমুদ্র সৈকত রীতিমতো তেজি ও বলীয়ান সমুদ্র।
সমুদ্র সৈকত খুবই নির্জন যেহেতু এটা অফবিট এরিয়া আর ট্যুরিস্ট-এর ভিড় নেই। খুবই পরিষ্কার বিচ। স্নান করা একটু বিপদজনক। বিকেলে স্থানীয় লোকেরা বিচে চলে আসে তখন সমুদ্র সৈকত খুবই জমজমাট লাগে। শেষে আবার একটা কথা, অবশ্যই আসুন পারাদ্বীপে। কোনও ভুল ধারণা (প্রথমে বলেছি) শুনে নয়, নিজে এসে পরখ করুন। গ্যারান্টি ১০০ শতাংশ ভাল লাগবেই। আবার আসতে ইচ্ছা করবে। (শেষ)
সৌজন্যে : ভ্রমণ পিপাসু / লেখক শুভজিৎ তোকদার

