অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। আবার বাড়ির বাইরে না-বেরোনোর পরামর্শ চিকিৎসকদের। ব্যাঙ্কের কাজ নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। স্মার্ট ফোন থাকলে সেই সমস্যার সমাধান করা যাবে। জেনে নিন এই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলি।
ইয়োনো অ্যাপের মাধ্যমে পরিষেবা পেতে হলে সেই অ্যাপটি ফোনে থাকা চাই। এক্ষেত্রে প্রথমে ইয়োনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লে-স্টোরে। আবার আই ফোনের ক্ষেত্রে যেতে হবে অ্যাপ স্টোরে। টাইপ করতে হবে ‘YONO by sbi’ এখানে ইন্সটল টিপুন তা হলেই ডাউনলোড হয়ে যাবে অ্যাপ। এবার নথিভুক্তি করা দরকার। যাঁদের নেট ব্যাঙ্কিং রয়েছে, তাঁদের অ্যাপে নথিভুক্তির প্রক্রিয়া ভিন্ন।
নেট ব্যাঙ্কিং থাকলে মোবাইলে অ্যাপ খুলে ‘এগজিস্টিং কাস্টমার ওয়ান টাইম রেজিস্ট্রেশন’-এ ক্লিক করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘আই হ্যাভ ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং আইডি, রেজিস্টার মি ফর ‘ইয়োনো’ বেছে নেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আপনার ইতিমধ্যেই নেট ব্যাঙ্কিং রয়েছে ও আপনি এখন ইয়োনোতে নথিভুক্তি করতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে পেজ খুলবে। এরপর নির্দিষ্ট জায়গায় রিটেল ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং-এর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড লিখতে হবে। শর্তাবলিতে রাজি হওয়ার পর অ্যাকনলেজ করতে হবে। এরপর নেক্সট টিপতে হবে।
পরবর্তীতে নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের পছন্দ মতো ছ-সংখ্যার মোবাইল পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (এমপিআইএন) দিতে হবে। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) এসে পৌঁছাবে। এরপর ওটিপি দিয়ে ক্লিক করলে কনগ্র্যাচুলেশন্স লেখা আসবে। এক্ষেত্রে এককালীন নথিভুক্তি বা ওয়ান টাইম রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। নথিভুক্তির পরে পরিষেবা পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন লাগবে না।
নেট ব্যাঙ্কিং না থাকলে ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে পাওয়া এটিএম কার্ডের মাধ্যমে নেট ব্যাঙ্কিংয়ে অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এক্ষেত্রে পূর্বের মতোই ফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এগজিস্টিং কাস্টমার বেছে নিন। এরপর পেজে নির্দিষ্ট জায়গায় এটিএম কার্ডের তথ্য লিখতে হবে। এক্ষেত্রে দিতে হবে অ্যাকাউন্ট নম্বর, জন্ম তারিখ। এখানেও মোবাইলে ওটিপি আসবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় এটিএম কার্ডের শেষ সংখ্যা ৬টি ও পিন নম্বরের সংখ্যা ৪টি লিখতে হবে। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট জায়গায় ওটিপি লিখে ক্লিক করতে হবে। এবার ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড ঠিক করে নিন। সেটা হলেই নেট ব্যাঙ্কিং চালু হয়ে যাবে। নেট ব্যাঙ্কিং চালুর পরে সমস্ত পদ্ধতি পূর্বের মতোই। তবে এটিএম কার্ড না-থাকলে সরাসরি ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে নেট ব্যাঙ্কিংয়ের রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিতে হবে।
অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়। স্টেট ব্যাঙ্কে সেভিংস অ্যাকাউন্ট না-থাকলেও ব্যাঙ্কের গ্রাহক না-হয়েও ফোনে এই অ্যাপ ডাউনলোড করে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। এক্ষেত্রেও পূর্বের মতোই ইয়োনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। বেছে নিতে হবে ‘নিউ টু এসবিআই’। নতুন পেজে ‘ওপেন সেভিংস অ্যাকাউন্ট’ বেছে নিন। এক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য একবারও ব্যাঙ্কের শাখায় যেতে না-চাইলে ক্লিক করতে হবে ‘উইথআউট ব্রাঞ্চ ভিজিটে’। এরপর সিলেক্ট করতে হবে ‘ইনস্টা প্লাস সেভিংস অ্যাকাউন্ট’। এভাবে অ্যাকাউন্ট খুললে চেক বই পাওয়া যাবে না।
এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে মোবাইল নম্বর লিখে নথিবদ্ধ করতে হবে। ই-মেলও দিতে পারেন। এক্ষেত্রেও মোবাইলে ওটিপি আসবে। সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় লিখে ক্লিক করতে হবে। এরপর পেজ আসবে। সেখানে পাসওয়ার্ড বা অ্যাপ্লিকেশন পাসওয়ার্ড তৈরি করে লিখতে হবে ও নেক্সট টিপতে হবে। এবার বাছতে হবে আধার বা ভিআইডি (ভার্চুয়াল আইডি) নম্বর। ভিআইডি নম্বর আধার কার্ডে রয়েছে। আবার এম-আধার সাইট থেকেও নেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় সংক্রান্ত বিশদ তথ্য যাচাই করে নেবে ব্যাঙ্ক। ওই সব তথ্য প্রাথমিকভাবে আপনার কাছে এসে পৌঁছাবে। সেসব ঠিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন।
তথ্য ঠিক রয়েছে কি না, তা জানার জন্য গ্রাহকের কাছে ব্যাঙ্ক ফোনে (আধার সংযুক্ত) ওটিপি আসবে। ওই ওটিপি নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে ক্লিক করলে পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে। এরপর নেক্সট ক্লিক করলে ব্যাঙ্কের শাখার তালিকা সামনে আসবে। শাখা ঠিক করার জন্য ‘সিলেক্ট ব্রাঞ্চে’ ক্লিক করে নিন। এরপর পাওয়া যাবে টোকেন নম্বর। ব্যাঙ্ক থেকে এবার আপনাকে ভিডিও কল করা হবে নো ইয়োর কাস্টমার (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত আসল নথিগুলি যাচাই করার জন্য।
এই পর্ব শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শেষ হবে। পোর্টালে অ্যাকাউন্ট ইয়োনো অ্যাপ ছাড়া তাদের পোর্টালেও অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। এতে পাওয়া যাবে চেক বই। এই প্রক্রিয়ার সবটা নেটে হবে না। সেখানে রেফারেন্স নম্বর পাওয়া যাবে। যা নিয়ে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এজন্য- www.sbiintouch.in-এ যেতে হবে। এরপর ওপেন এ ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট অপশনে ক্লিক করতে হবে। মোবাইল নম্বর চাইলে ই-মেল আইডি দিতে হবে। অ্যাপের পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। মোবাইলে আসা ওটিপি দিতে হবে। ‘উইথ আধার’ বা ‘উইথ ওভিডি’ (পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ভোটার কার্ড প্রভৃতি) বেছে নিন এবং সেই নম্বর দিতে হবে।
এরপর স্ক্যান করা ছবি আপলোড করতে হবে। কম্পিউটারের ক্যামেরায় নিজের ছবি তুলে দিতে হবে। এরপর নেক্সট ক্লিক করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নেক্সট টিপতে হবে। নমিনির নামও দিয়ে দিন। নেক্সট টিপতে হবে। পরিষেবা নিতে চান (এটিএম, চেক বই ও এসএমএস অ্যালার্ট প্রভৃতি) সেটা বেছে নিতে হবে। নিজের শাখাও বেছে নিতে হবে। তৈরি হবে রেফারেন্স নম্বর। রেফারেন্স নম্বর ও কেওয়াইসি-র নথি নিয়ে ওই শাখায় যেতে হবে। এরপর তৈরি হবে অ্যাকাউন্ট।
টাকা পাঠানো যাবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বেনিফিশিয়ারি যুক্ত করে অর্থাৎ, যাঁকে বা সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবেন আগে থেকে সেই অ্যাকাউন্টের তথ্য নিজেরটি যুক্ত করে কোনও বেনিফিশিয়ারি ছাড়া বা তথ্য নথিভুক্ত সংযুক্ত না করে। এক্ষেত্রে বেনিফিশিয়ারি যোগ না করে অ্যাপে গিয়ে ‘কুইক পে’-তে ক্লিক করতে হবে। টিপতে হবে বেনিফিশিয়ারি বা কন্ট্যাক্টস। নির্দিষ্ট স্থানে যাঁকে টাকা পাঠাবেন, তার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তথ্যগুলি লিখে দিতে হবে। পাশাপাশি দিতে হবে টাকার অঙ্ক ও টাকা পাঠানোর কারণটিও।
যেসব ব্যক্তির মোবাইলে ইউপিআই অ্যাপ রয়েছে, তাঁদেরই টাকা পাঠানো যাবে। সেই ফোন নম্বর দেওয়া হলে ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত মোবাইলে ওটিপি আসবে। ওটিপি লিখে নির্দিষ্ট জায়গায় ক্লিক করলেই টাকা পাঠানোর বিষয়টি মিটবে। এক্ষেত্রে বেনিফিশিয়ারি যুক্ত করে টাকা পাঠানো সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে আগে থেকে সেই ব্যক্তি বা সংস্থার অ্যাকাউন্টের বিশদে আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা চাই। এই পদ্ধতিতে টাকা পাঠানোর জন্য প্রথমে ‘ইয়োনো পে’-তে ক্লিক করতে হবে। বাকি সব পদ্ধতি ‘ইয়োনো কুইক পে’-র মতোই একই পদ্ধতি।
১৫জি বা এইচ জমার ক্ষেত্রে অ্যাপে ‘কুইক লিঙ্কে’-এ যেতে হবে। এক্ষেত্রে ‘সার্ভিস রিকোয়েস্টে’-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর যেতে হবে ‘ট্যাক্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’-এর জায়গাটিতে। সেখানে সিলেক্ট করুন ‘ফর্ম ১৫জি বা এইচ সাব-মিশন’। ব্যাঙ্কের শাখা নির্দিষ্ট করার জন্য ব্রাঞ্চ ঠিক করে ক্লিক করতে হবে। পেজ আসলে তাতে আপনার অ্যাকাউন্টের সব তথ্য মিলবে। তথ্যগুলি দেখতে হবে। এরপর ‘নেক্সট’-এ ক্লিক করতে হবে। পেজে ‘ফর্ম ১৫জি বা এইচ’ আসবে যাতে কিছু তথ্য আপনাকে নির্দিষ্ট জায়গায় লিখে দিতে হবে।
তথ্য চাওয়া হচ্ছে সেগুলি লিখে নেক্সট টিপতে হবে। এরপর আসবে শর্তাবলি। সেগুলি দেখার পর ক্লিক ‘অ্যাক্সেপ্ট’ টিপতে হবে। নথিবদ্ধ মোবাইলে ওটিপি আসবে। ওটিপি নির্দিষ্ট স্থানে লিখে ক্লিক করলেই ১৫জি বা এইচ ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি মিটবে।
বিমা প্রকল্প কেনার বিষয়। ইয়োনো অ্যাপের মাধ্যমে কেনা যায় জীবন ও সাধারণ বিমা প্রকল্পও। এক্ষেত্রে শুধু স্টেট ব্যাঙ্কের শাখা সংস্থা এসবিআই লাইফ ইনশিওরেন্স ও এসবিআই জেনারেল ইনশিওরেন্সের প্রকল্পই কেনা যাবে। এক্ষেত্রে প্রথমে অ্যাপে লগ-ইন করতে হবে। সেখানে ইনশিওরেন্সে ক্লিক করতে হবে। পেজে ‘বাই এ পলিসি অপশন’ আসবে। সেক্ষেত্রে জীবন (লাইফ), স্বাস্থ্য (হেলথ), গাড়ি (মোটর) ও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা প্রভৃতি ভাগ থাকবে। পলিসি কিনতে চাইলে তাতে ক্লিক করতে হবে। এরপর বিমার প্রিমিয়াম জানার জন্য ক্লিক করতে হবে ‘গেট অ্যা কোট’-এ। কোনও পলিসি কিনতে চাইলে তা জানানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় ‘টিক’ মার্ক দিতে হবে।
শর্তের বিষয়গুলি ভাল করে জেনে ‘এগ্রি’ টিপতে হবে। পেজ খুলে যাবে। এক্ষেত্রে বিমা প্রকল্পের তালিকা সামনে আসবে। পছন্দ মতো প্রকল্প বেছে নেওয়ার পর ক্লিক করতে হবে। প্রকল্প সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হবে। এরপর কী ধরনের বিমা প্রকল্প কিনতে আগ্রহী, বিমা সংস্থার বিবরণ, গ্রাহকের জন্ম-তারিখ, কত টাকার বিমা করাতে চান তার অঙ্ক প্রভৃতি থাকবে। নির্দিষ্ট স্থানে সেগুলি লিখে ক্লিক করুন।
ঋণের আবেদনের ক্ষেত্রে অ্যাপে বাড়ি-গাড়ি কেনা-সহ বিভিন্ন ধরনের ঋণের আবেদনও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আবেদন গৃহীত হলে পরে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে ঋণ পাওয়ার বাকি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে অ্যাপ খুলে ক্লিক করতে হবে ‘লোন অপশনে’। এখানেও পেজ খুলে যাবে। তাতে গৃহ-ঋণ, গাড়ি ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ-সহ বিভিন্ন ঋণের তালিকা রয়েছে। গ্রাহককে নির্দিষ্ট ঋণের স্থানে ক্লিক করতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু তথ্য আবেদনকারীর কাছে জানতে চাওয়া হবে। সেগুলি নির্দিষ্ট স্থানে লেখা চাই। সেই তথ্যের নিরিখে প্রাথমিক পর্বে ঋণের আবেদন গৃহীত হলে তা আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর একটি ‘রেফারেন্স নম্বর’ মিলবে। সেই নম্বরটি নিয়ে আবেদনকারীকে ব্যাঙ্কের শাখায় পৌঁছতে হবে। বাকি প্রক্রিয়া সেখানে মিটবে।
মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

