কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবন উপকূলবর্তী অঞ্চল সমূহে ৫ কোটিরও বেশি ম্যানগ্রোভ লাগানোর তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্যের বন দফতর। দক্ষিণ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর খাস জমিও বরাদ্দ করা হয়েছে।
“আম্ফান” ও”যশ” বিপর্যয়ের পর সুন্দরবন সহ উপকূল জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ জঙ্গল বিপন্ন হয়। সেই ক্ষত পূরণ করার জন্য সুন্দরবন এলাকা লাগোয়া ৫কোটির বেশি ম্যানগ্রোভ লাগাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য বন দফতর। স্থানীয় সূত্রের খবর, বন দফতরের বিভিন্ন নার্সারিতে ৬টি প্রজাতির ম্যানগ্রোভ চারা তৈরি করে সবুজায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য বন দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছর “আম্ফান” তাণ্ডবে সুন্দরবন-সহ দুই জেলায় ছোট ও বড় মিলিয়ে বহু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। উপকূল ও নদী লাগোয়া এলাকাতেই ক্ষয়- ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয় । ওই সময় প্রচুর গাছ লাগিয়েছিল রাজ্য বন দফতর। এরপর “যশ” ও পূর্ণিমার ভরা কোটালে নষ্ট হয়ে যায় নতুন গাছগুলির বড় অংশ। সবুজের ঘাটতি মেটানোর জন্য দুই ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসন ও বন দফতর যৌথভাবে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে।
রাজ্যের বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এ বিষয়ে জানিয়েছেন,”আম্ফান”-এর পর অনেক গাছ লাগানো হয়েছিল সুন্দরবন এলাকায় । “যশ” জেরে সেই গাছগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার প্রায় ৫ কোটির বেশি গাছ লাগানো হচ্ছে। গাছগুলির পরিচর্যাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,জেলার ১৪টি নার্সারিতে দুই প্রজাতির বাইন, কাঁকড়া, ক্যাওড়া, খুলসি, গর্জন ও গরান গাছের চারা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, রায়দিঘি, কুলতলি, বাসন্তী, গোসাবা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি ব্লকে শুরু হবে এই বৃক্ষরোপণ।
১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে এই সব গাছ লাগানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ম্যানগ্রোভ বসানোর কাজ শেষ হবে বলে জানা যায়। গাছ যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে নজর রাখার জন্য বন দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

