Ichamati River-1Miscellaneous 

টাকিতে একদিন

অবসর গ্রহণের পর আমার প্রথম একদিনের সফর করেছিলাম টাকি শহরে। ২০১৭ সালে ডিসেম্বর মাসের এক শীতের সকালে ইছাপুর থেকে স্ত্রী, কন্যা, শালিকা ও তৎপুত্র-সহ যাত্রা শুরু করলাম টাকির উদ্দেশ্যে। ইছাপুর থেকে টাকির দূরত্ব ৮২ কিমি। গন্তব্য পথের মধ্যে এক জায়গায় সেরে নেওয়া হল প্রাতঃকালীন জলযোগ। আড়াই ঘন্টা পর এসে পৌঁছলাম টাকি শহরের রাজবাড়ির ঘাটের কাছে। সেখানে গাড়ি পার্কিং করে আমরা রাজবাড়ির ঘাট থেকে ইছামতী নদীতে লঞ্চযোগে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলাম টিকিট সংগ্রহের জন্য। এই ঘাটটি বসিরহাট ও হাসনাবাদের মাঝখানে অবস্থিত।

এখানে ছিল টাকি রাজবাড়ি। বর্তমানে এই ঘাটটি সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে ট্যুরিস্টদের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ইছামতী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার টাকি শহর। নদীর অপর প্রান্তে অর্থাৎ পূর্বদিকে বাংলাদেশ অবস্থিত। টাকি শহরের পুরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে। তখন টাকি শহরের বেশিরভাগ জায়গা ছিল জঙ্গলে ভরা। সেই সময় ইছামতী নদীর নাম ছিল যমুনা-ইছামতী। পুত্র-কন্যাদের আবদারে ও উৎসাহে লঞ্চের ছাদে উঠে বসলাম। একদিকে ভারতবর্ষ ও অপর দিকে বাংলাদেশ। নদীর মাঝ বরাবর একটি রেখা টেনে নদীকে দু-ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা টাঙিয়ে দুই দেশের নৌকা যার যার সীমানার মধ্যে যাতায়াত করছে। এই ব্যাপারে দুই দেশের কড়া নজরদারি রয়েছে বুঝতে পারলাম।

নদী বক্ষে ভ্রমণ করতে করতে BSF Camp ছাড়িয়ে লঞ্চ এসে দাঁড়াল মাছরাঙা দ্বীপে। ইছামতী ও ভাসা নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত চমৎকার একটি নির্জন দ্বীপ। সাঁতার কাটা ও পাখি দেখার জন্য আদর্শ স্থান। এরপর চলে এলাম নদীর মোহনায়। যেখানে কালিন্দী, বিদ্যাধরী ও ইছামতী এসে মিশেছে। সে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি। দূরে বাংলাদেশের হাতছানি মন উচাটন করে তুলেছিল। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আমাদের দেশের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম সারি সারি ইটভাটা ও ত্রিশক্তি মন্দির। ইছামতী নদীতে নৌকা ভ্রমণ একটি আকর্ষণীয় বিষয়।

দুর্গাপূজার সময় দুই পাড়ে দুই দেশের মানুষ মেতে ওঠে উৎসবকে ঘিরে। দশমীর রাতে ইছামতী নদীতে নৌকা করে প্রতিমা নিরঞ্জন আর এক দর্শনীয় বিষয়। ফিরতি পথে রাজবাড়ি ঘাটে নেমে পড়লাম। টাকিকে ‘গেটওয়ে অব সুন্দরবন’ বলা হয়। লঞ্চ থেকে নেমে রাজবাড়ি ঘাট থেকে একটা টোটো ভাড়া করে নিলাম টাকির দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য। টোটোতে চেপে ভ্রমণের পূর্বে টাকি রাজবাড়ির নিকটবর্তী একটি রেস্টুরেন্টে দ্বি-প্রাহরিক আহার সমাধা করলাম। টোটো চালক আমাদের গাইডের ভূমিকাও পালন করেছিল। (ক্রমশঃ) (ছবি – সংগৃহীত)
সৌঃ- ভ্রমণপিপাসু / লেখক – অনুপম মজুমদার

Related posts

Leave a Comment