ছোটদের হার্ট ভাল রাখতে পরামর্শ
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ছোটদের হার্ট ভাল রাখার উপায়। সাম্প্রতিককালে ভারতে বড়দের পাশাপাশি ১৮ বছরের নিচে এবং শিশুদের মধ্যেও হার্ট সংক্রান্ত নানা অসুখ ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অসুখের প্রথম দিকেই অভিভাবক এবং শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা উপসর্গগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনও পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের কাছে পাঠিয়ে থাকেন।
এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অসুখ জটিল হওয়ার পূর্বেই তার চিকিৎসা করা যায় সফলভাবেই। যাদের রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তাদের চিকিৎসা হয় সময়ের মধ্যেই। দ্রুত তারা সুস্থও হয়ে উঠেন। পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় টাইম অফ ইন্টারভেনশন, টাইপ অফ ইন্টারভেনশন ও কোয়ালিটি অ্যান্ড আউটকাম অফ ইন্টারভেনশনের উপর। এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, জন্মগত ত্রুটির কারণে, জেনেটিক কারণে, সঠিক গ্রোথ না হওয়া, প্রেগন্যান্সির সময় মাতা-পিতার ধূমপান বা মদ্যপানের আসক্তি প্রভৃতি নানা কারণে শিশুরা হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ভুগতে থাকে।
অন্যদিকে একেবারে ছোট অবস্থায় যেসব শিশুরা ব্লু বেবি সিনড্রোমে ভুগে থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে। উপসর্গটি বুঝতে পেরে শিশু চিকিৎসককে জানাতে হবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদেরও উচিত দেরি না করে তাকে পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের কাছে পাঠানো। যেসব উপসর্গগুলি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কোনও পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত সেগুলি হল- শিশুদের ঠোঁট এবং ত্বক নীল হয়ে যাওয়া। আবার তারা যদি খেতে না পারে সেক্ষেত্রেও। খুব ঘেমে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা বুকে যদি ব্যথা হয় তাহলেও সতর্ক হতে হবে।
আবার ক্লান্তি আসলে, খেলাধুলোয় অনীহা প্রকাশ করলে সাবধানী হতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের বক্তব্য, এমন অনেক শিশু আসে, যাদের হার্টে ছিদ্র রয়েছে বা শিরা তৈরিই হয়নি, এক্ষেত্রে সত্বর ইন্টারভেনশনের প্রয়োজন থাকে। আবার কোনও শিশুর শিরা হয়ত বন্ধ, সেখানে বেলুন দিয়ে শিরা খুলে দেওয়া যায়। এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের আরও বক্তব্য, ব্লু বেবি সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গেই পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের কাছে মতামত নেওয়া উচিত।
উন্নতমানের অপারেশন থিয়েটার, ক্যাথ ল্যাব, অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট, সার্জন থাকলে সমস্যা কম। উল্লেখ করা যায়, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি গত ৩০-৪০ বছরে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। ইকো বা ক্যাথিটারাইজেশন করে পরিকল্পনা করে একজন শিশুর সার্জারি করা সম্ভব হচ্ছে। বাচ্চাদের রোগ নির্ণয় করা থেকে অপারেশন, পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার এবং তাকে সেবা করে পরিবারের হাতে সুস্থ বাচ্চাকে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়।

