চলে গেলেন ভারতীয় রাজনীতির “চাণক্য”
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায় (৮৪)। তাঁর জন্ম ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সাল। আজ ৩১ আগস্ট, ২০২০তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।তাঁর মৃত্যুতে রাজনীতির নক্ষত্র পতন হল। শেষ হল এক অধ্যায়ের। তাঁকে রাজনীতির চাণক্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে ভারতের সিনিয়র নেতা ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে কংগ্রেসের টিকিটে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় নির্বাচিত করতে সাহায্য করায় রাজনীতিতে ব্রেক পেয়েছিলেন। তিনি শ্রীমতি গান্ধীর অন্যতম বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্ট এবং তাঁর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হন। ১৯৮২-৮৪ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় ছিলেন।
১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর সময় ইন্দিরার যথাযথ উত্তরসূরি হিসাবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। প্রসঙ্গত, জাতীয় সমাজবাদী কংগ্রেস গঠন করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর সময়ে তা কংগ্রেসে মিশে যায়। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও তাঁকে পরিকল্পনা কমিশনের প্রধান করেন। ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিলেন। কংগ্রেসের প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসাবে তিনিই সোনিয়া গান্ধীর উত্থানের নেপথ্যে ছিলেন।২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকারে প্রতিরক্ষা ,বিদেশ বিষয়ক এবং ফিনান্স প্রভৃতি একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। লোকসভায় সভায় নেতা হওয়া ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বে আসীন ছিলেন। ২০১২ সালে পি.এ. সাংমাকে পরাজিত করে দেশের রাষ্ট্রপতি হন। স্বাস্থ্যজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পর রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ৫০ বছরের বেশি তাঁর রাজনৈতিক জীবন। ২০১৯ সালে ভারতরত্ন ছাড়াও পদ্মবিভূষণ সহ একাধিক সম্মান পেয়েছেন প্রণববাবু।

