কৃষকদের সয়াবিন চাষ করার সুপারিশ কৃষি-বিশেষজ্ঞদের
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : সয়াবিন চাষ করে লাভ ঘরে তুলতে পারেন চাষিরা। এমনকী সয়াবিনের চাষ করে কৃষকরা ভাল আর্থিক লাভও পেতে পারেন। উল্লেখ্য, বাজারে সয়াবিনের চাহিদা সবসময়ই রয়েছে। ভাল দামেই বিক্রি হয়ে থাকে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের প্রচলিত চাষের পাশাপাশি সয়াবিন চাষ করার সুপারিশও করছেন। এক্ষেত্রে কৃষি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সয়াবিনের চাষ করতে হবে জল নিকাশি ব্যবস্থা যুক্ত দোআঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে। এই মাটিতে চাষ করলে ভাল উৎপাদন পাওয়া যায়। পাশাপাশি সয়াবিনের গুণগত মানও ভাল হয়।
এই চাষের ক্ষেত্রে অন্যান্য চাষের থেকে তুলনামূলকভাবে খরচও অনেকটা কম। ভাল উৎপাদন পাওয়ার জন্য উন্নতমান যুক্ত জাতের সয়াবিন চাষ করতে হবে। সবচেয়ে ভাল জাতগুলির মধ্যে রয়েছে– সয়া ম্যাক্স, পিকে-৪৭২, জেএস-৮০, ২১, জেএস-৩৩৫ ও বিরসা সয়াবিন-১ প্রভৃতি। বীজ লাগানোর আগে ভাল করে শোধন করে নেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে ম্যাঙ্কোজেব ৭৫ শতাংশ ৩ গ্রাম বা থাইরাম ৭৫ শতাংশ ২ গ্রাম বা ক্যাপটান ৭৫ শতাংশ ২ গ্রাম হারে ভালভাবে মেশালেই বীজ শোধন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া বীজ বপন করা দরকার সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে। এক্ষেত্রে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের মধ্যে বীজ লাগিয়ে ফেলতে হবে। তবে অগ্রহায়ণ মাসেও সয়াবিন চাষ করা যেতে পারে। বিঘা প্রতি বীজ প্রয়োজন হয় ৭ কেজির মতো। আবার সারিতে বোনা হলে খরিফে ১.৫০ ফুট বাই ১ ফুট দূরত্বে এবং রবি মরসুমে বুনলে ১ ফুট বাই ৬ ইঞ্চি দূরত্বে বীজ ফেলা প্রয়োজন। একর প্রতি মূল সার ৮ কেজি নাইট্রোজেন, ২৪ কেজি ফসফেট ও ২৪ কেজি পটাশ প্রয়োজন হবে। কোনও চাপানসারের প্রয়োজন নেই। আবার বিঘা প্রতি ৬ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট ১৩.৫ কেজি মিউরিয়েট অব পটাশ মূল সার হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে বলে জানা গিয়েছে।

