S-1Miscellaneous 

নির্বাচনী পরিক্রমা- জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বাংলার ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৮ দফা ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬টি। একুশের এই নির্বাচনে জেলাওয়াড়ি একঝলক ভোট- চিত্র তুলে ধরছি আমরা।

এবারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলায় আসন সংখ্যা মোট ৩১টি। নির্বাচনী নির্ঘন্ট- দ্বিতীয় দফা (১ এপ্রিল) এই দফায় যেসব কেন্দ্রে ভোট হবে সেগুলি হল- গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ ও সাগর। আবার তৃতীয় দফা (৬ এপ্রিল) ভোট হবে যেসব কেন্দ্রে সেগুলি হল- বাসন্তী, কুলতলি, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর (পূর্ব), ক্যানিং (পশ্চিম), ক্যানিং (পূর্ব), বারুইপুর (পশ্চিম), মগরাহাট (পূর্ব), মগরাহাট (পশ্চিম), ডায়মন্ডহারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া ও বিষ্ণুপুর। এরপর চতুর্থ দফা (১০ এপ্রিল) ভোট হবে যেসব কেন্দ্রে সেগুলি হল- সোনারপুর (দক্ষিণ), ভাঙড়, কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর (উত্তর), টালিগঞ্জ, বেহালা (পূর্ব), বেহালা (পশ্চিম), মহেশতলা, বজবজ ও মেটিয়াগঞ্জ।

গত বিধানসভা নির্বাচনে যে চিত্র ছিল তা একনজর। বিধানসভা কেন্দ্র ও বিজয়ীরা হলেন- সোনারপুর (উত্তর)- ফিরদৌসি বেগম (তৃণমূল), সোনারপুর (দক্ষিণ)- জীবন মুখোপাধ্যায় (তৃণমূল), বারুইপুর (পূর্ব)- নির্মল মণ্ডল (তৃণমূল), বারুইপুর (পশ্চিম)- বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল), ভাঙড়- আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা (তৃণমূল), মহেশতলা- দুলাল দাস (তৃণমূল), বজবজ- অশোক দেব (তৃণমূল), ডায়মন্ডহারবার- দীপক হালদার (তৃণমূল), বিষ্ণুপুর- দিলীপ মণ্ডল (তৃণমূল), সাতগাছিয়া- সোনালি গুহ (তৃণমূল), ফলতা- তমোনাশ ঘোষ (তৃণমূল), মগরাহাট (পূর্ব)- নমিতা সাহা (তৃণমূল) এবং মগরাহাট (পশ্চিম)- গিয়াসউদ্দিন মোল্লা (তৃণমূল)।
জয়নগর- বিশ্বনাথ দাস (তৃণমূল), কুলপি- যোগরঞ্জন হালদার (তৃণমূল), মন্দিরবাজার- জয়দেব হালদার (তৃণমূল), রায়দিঘি- দেবশ্রী রায় (তৃণমূল), পাথরপ্রতিমা- সমীর জানা (তৃণমূল), কাকদ্বীপ- মন্টুরাম পাখিরা (তৃণমূল), সাগর- বঙ্কিম হাজরা (তৃণমূল), ক্যানিং (পূর্ব)- সওকত মোল্লা (তৃণমূল), ক্যানিং (পশ্চিম)- শ্যামল হালদার (তৃণমূল), বাসন্তী- গোবিন্দ নস্কর (তৃণমূল), গোসাবা- জয়ন্ত নস্কর (তৃণমূল) এবং কুলতলি- রামশঙ্কর হালদার (সিপিএম)।
এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়, ফলতার বিধায়কের প্রয়াণে আসনটি শূন্য হয়।

জেলা-পরিক্রমা করে স্থানীয় মানুষদের যে দাবি উঠে এসেছে তা হল- বারুইপুর স্টেডিয়াম, বজবজ থেকে কলকাতা যাওয়ার বাস পরিষেবার বিষয়টি সামনে এসেছে। এছাড়া মেডিক্যাল কলেজ, মগরাহাটে হাসপাতাল ও স্থানীয় পরিবহণের সমস্যার বিষয়টি রয়েছে আলোচনায়। ডায়মন্ডহারবার ও বারুইপুরে যানজটের বিষয়টি প্রকাশ্যে। সোনারপুরে নিকাশি সমস্যা ও গড়িয়া বাজার এলাকায় দখলমুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায়।
এছাড়া ক্যানিং থেকে কলকাতায় যাতায়াতের পরিবহণ ব্যবস্থা, কুলপি রোডের সংস্কার, কৈখালী ও পিয়ালিতে পর্যটনকেন্দ্র, গদখালি থেকে গোসাবা ব্রিজের বিষয়টি সামনে এসেছে। গোসাবা হাসপাতালের উন্নয়ন, মুড়িগঙ্গার ওপর স্থায়ী ব্রিজের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে- ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল প্রভৃতি বিষয়গুলি রয়েছে। বারুইপুর রেল ওভারব্রিজ, মহেশতলা জল প্রকল্প, কিষাণ মান্ডি ও সোনারপুরে জল প্রকল্পের বিষয় রয়েছে। ভাঙড়ে পাকা রাস্তা, কর্মতীর্থ ও ফলতায় রাস্তাঘাট, আইটিআই কলেজ ও পানীয় জলের সমস্যার বিষয়ও রয়েছে।
রায়দিঘিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা, জয়নগরে দমকল কেন্দ্র, জয়নগর-বারুইপুর বাস পরিষেবা, মন্দিরবাজারে মাধ্যমিক স্কুল উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত, মথুরাপুরে কৃষকবাজার, কাকদ্বীপে কালনাগিনী নদীর উপরে সেতু, কাকদ্বীপে নিকাশির উন্নতি, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল প্রভৃতি বিষয়গুলি আলোচনায়। এছাড়া বকখালি যাওয়ার জন্য হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর ওপর ব্রিজ ও গোসাবায় গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রভৃতি বিষয়গুলি থাকছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু রাস্তা হয়েছে। উন্নয়ন সর্বস্তরে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। আম্ফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু নেতা-কর্মী নিজেদের স্বার্থ কায়েম করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ। নদী বাঁধের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগও।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন মানুষের বিভিন্ন অভিযোগও। পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবাধে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আম্ফানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাননি বলেও অভিযোগ স্থানীয় মহলে। পুরসভার ভোট না হওয়ায় কাজ বন্ধ থাকার অভিযোগও সামনে। বাঁধ মেরামতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। আম্ফানে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।

খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

Related posts

Leave a Comment