শরীরচর্চার সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে রয়েছে বিজ্ঞান
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : শরীরচর্চা ও বিজ্ঞান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এক্ষেত্রে চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শরীরচর্চা থেকে যা সু-প্রভাব পাওয়া যায়, তা একটা ওষুধের মধ্যে পাওয়া যাবে- এমন একটা আবিষ্কার হলে ভাল হতো। যোগাভ্যাস বা শরীরচর্চার সুফল সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলছে নিরন্তর। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই শরীরচর্চা, ইমিউনিটি এসব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নানা চর্চা চলেছে। এক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বহু মানুষ। আলোচনার বিষয়বস্তু শরীরচর্চায় লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞান প্রসঙ্গে। যেমন- শরীরচর্চা ও মস্তিষ্ক : এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শরীরচর্চা করলে হার্ট, পেশী, ফুসফুস ও হাড় প্রভৃতি অঙ্গ ভাল থাকে। প্রযুক্তির পাশাপাশি বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা জগতেও এসেছে পরিবর্তন। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, বিজ্ঞান বলছে শরীরচর্চা করলে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হওয়া যাবে। অন্যদিকে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। আবার বেড়ে যাবে শেখার ও গ্রহণ করার ক্ষমতাও। পাশাপাশি শরীরচর্চা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সতেজ করবে। নতুন রক্তকোষ ও ব্রেন সেল তৈরি করতে সাহায্য করবে।
ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও শরীরচর্চা : সমীক্ষা অনুযায়ী জানা যায়, অ্যারোবিক্স এক্সারসাইজ নিউরোট্র্যান্সমিটার গঠনে কার্যকরী। নিয়মিত অ্যারোবিক্স করলে শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগাযোগ সাধন সহজ হবে। এক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে উঠেই কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হবে না। স্বল্প সময় সক্রিয়ভাবে এক্সারসাইজ করলেই ফল পাওয়া সম্ভব।
ইনফ্ল্যামেশন ও শরীরচর্চা : এই বিষয়টি অনেকেই এড়িয়ে চলতে থাকেন। উপযুক্ত শরীরচর্চা শরীর ও মস্তিষ্কের ইনফ্ল্যামেশন উৎপাদনকারী এজেন্টকে বা সি রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন ও ইন্টার্নলিউকিন সিক্স কম করে। এই সব উপাদান শরীরে নিয়ন্ত্রিত থাকলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারকেও হার মানাতে সাহায্য করবে।
হার্টের সমস্যা ও শরীরচর্চা : এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, হার্ট ভাল রাখার সবথেকে ভাল উপায় হল নিয়মিত শরীরচর্চা। এরফলে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। সমীক্ষা অনুযায়ী জানা গিয়েছে, নিয়মিত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করলে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। অন্যদিকে ধমনীতে রক্তপ্রবাহ সহজতর হয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শরীরচর্চা করলে হার্টের পক্ষে তা ক্ষতিকারক হতে পারে। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চাই শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে। বার্ধক্যেও তারুণ্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। প্রযুক্তি ও শরীরচর্চার সঙ্গে লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞানকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। এটি প্রমাণিত হয়েছে, যে-কোনও কঠিন রোগের চিকিৎসার জন্য শরীরচর্চা বিষয়টি কার্যকরী। এক্ষেত্রে সবার আগে জরুরি বিষয় হল- নিজের শরীরকে জানা। সুস্থ ও নিরোগ থাকার জন্য শরীরচর্চা করা উচিত।

