বার্ড ফ্লু রুখতে জরুরি কিছু পরামর্শ
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বার্ড ফ্লু রুখতে খামারে জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বার্ড ফ্লু শুরু হয়েছে। মুরগি ও পাখি মারা যাচ্ছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা প্রাণিপালকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেছেন। বার্ড ফ্লু শুরু হয়ে গেলে এটি থামানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই তাঁরা আগে থেকে কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। পশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাখির খামারগুলিতে পাখির ফ্লু সংক্রমণ রোধে জৈবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, প্রথমে খামারে অপ্রয়োজনীয় লোকের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। খামারের প্রবেশ পথে জীবাণুনাশক মিশ্রিত জল ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যাতে খামারে প্রবেশ করার আগে পা সেই জলে ভিজিয়ে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও খামারে গাড়ি প্রবেশের সময় এবং বেরনোর সময় চাকাগুলি জীবাণুনাশক জলে ভাল করে ধুয়ে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে পুরো গাড়িটি জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। একইভাবে, যাঁরা পাখিদের যত্ন নিয়ে থাকেন তাঁরাও জীবাণুনাশক স্প্রে চ্যানেলের মাধ্যমে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। এছাড়াও খামারের আশপাশে নিয়মিত চুন এবং ব্লিচিং করা উচিত। কিছু জীবাণুনাশক রয়েছে যা মুরগি থাকলেও খামারের ভিতরে স্প্রে করা যেতে পারে। তবে পশুচিকিৎসকদের পরামর্শে সেগুলি স্প্রে করতে হবে। ফর্মালিন বা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড সাথে চুন-ব্লিচিংয়ের স্প্রে করে খামার চত্বর জীবাণুমুক্ত করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম উৎপাদনের জন্য যদি খামার হয় তবে কিছু ডিম সেখানে পচতেও পারে। তবে এই ডিমগুলি মোটেও সেখানে রাখা উচিত নয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের একটি গর্তে ফেলা উচিত। এছাড়াও একটি বড় খামারে এক বা দুটি মুরগি দিনে মারা যেতেও পারে। এগুলিও খোলা জায়গায় না ফেলে মাটির নীচে চেম্বার করে ভিতরে রাখতে হবে। চেম্বারের উপরের অংশটি ঢেকে রাখা উচিত। এই মরা মুরগির পচনের জন্য সময়ে সময়ে চেম্বারে লবণ এবং ব্লিচিং যোগ করা উচিত। বড় খামারের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বা ডিজেল ইনসিনারেটের (চুল্লি) ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মৃত মুরগি ইনসিনারেটের ভিতরে দিতে হবে। এক্ষেত্রে , আর জীবাণু ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
পশুচিকিৎসকদের একটা অংশ জানিয়েছেন, খামারে মুরগি সুস্থ ও সবল রাখতে নিয়মিত টিকা দেওয়া জরুরি। এইচফাইড এন ওয়ান ভাইরাসজনিত কারণে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর সেরকম কোনও টিকা নেই। এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, এই ভাইরাসটি মিউটেশনের মাধ্যমে স্ট্রেইন দ্রুত পরিবর্তন করে। ভাইরাসটি মূলত পাখির শ্বাসনালীর উপর আক্রমণ করে। পরে এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে বার্ড ফ্লু ভাইরাস মূলত হাই প্যাথোজেনিক স্ট্রেইনের কারণে ঘটে থাকে। সব মিলিয়ে সমস্যা বাড়ছে। সতর্ক সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞমহল। তৎপর প্রশাসন।

