Cow-1Miscellaneous 

পোষ্য গোরুর প্রতি অসীম টান- ঘটনা ঘিরে আলোড়ন

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বেচেও প্রিয় গোরুকে ফেরালেন কৃষক। ঠিক যেন শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পের চিত্রনাট্য এটি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষিণ গোবিন্দপুরের এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য। স্থানীয় সূত্রের খবর, পোষ্য গোরুর প্রতি অসীম টান ফুটে উঠল। মাসখানেক আগে শখ করে বাছুর-সহ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি সাদা গোরু কিনেছিলেন আখতার সাহেব। নিজের বাড়িতে মা ও বাচ্চাকে রেখেছিলেন। খাওয়ানো-সহ নানা কাজ সবই নিজের হাতে করতেন। আদর করে তাঁর এই পোষ্যকে ‘সাদা বুড়ি’ বলে ডাকতেন। গবাদি পশুর স্নান করানো নিয়ে রোজই ঝগড়া হতো কাজের লোকের সঙ্গে।

নানা কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত গোরুকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পেশায় চাষি আখতার আলি মণ্ডল। এরপর ক্যানিংয়ের এক মাস্টারমশাইয়ের কাছে ৪০ হাজার টাকায় প্রিয় পোষ্যকে বেচে দেন। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, পোষ্য বিক্রির পর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন। একটা শূন্যতা তৈরি হয়। এরপর নিজের ভুল বুঝতে পারেন তিনি। এ বিষয়ে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, সন্তানের মতো আদর যত্ন করেছিলাম। তাই এই শূন্যতা বোধ তৈরি হয়। কাজে মন বসছিল না। খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঠিক করি, সাদা বুড়িকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনব।

তবে প্রিয় গবাদি পশুকে ফিরে পেতে নাকাল হতে হয়েছে। যোগাযোগ করলেও নতুন ক্রেতা গোরু ফেরাতে নারাজ। অনেক অনুরোধ করলেও লাভ হয়নি। তবুও থেমে থাকেননি। সাদা বুড়িকে ফিরিয়ে আনার সংকল্প করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, প্রথমে বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেটিং গ্রুপের লক্ষীকান্ত বিশ্বাসকে বিষয়টি জানান তিনি। সেখান থেকে ক্যানিং থানায় খবর পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে নরেন্দ্রপুর থানার আইসি সুখময় চক্রবর্তীর কাছেও সংবাদটি পৌঁছে যায়। থানায় গিয়ে কাঁদতে থাকেন পোষ্য বিক্রেতা। দুই থানার মিলিত প্রচেষ্টায় অবশেষে গোরুটিকে ফেরৎ দিতে রাজি হন মাস্টারমশাই। এরপর প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রিয় সাদা বুড়িকে বাড়ি নিয়ে যান চোখের জল মুছে। আখতার সাহেবের এই ঘটনা ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি হয় এলাকায়।

Related posts

Leave a Comment