dhanteras and pujaMiscellaneous Trending News 

অশুভ শক্তির বিনাশে প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয় ধনদেবীর আরাধনা

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ধনতেরাসে যথাসময়ে পুজো করলে ভাগ্যদেবী সহায় থাকেন বলে পুরোহিত ও শাস্ত্রবিদরা বলে থাকেন। এক্ষেত্রে দূর হয়ে যাবে নানাবিধ অভাব ও অনটন। পুরোহিত বা শাস্ত্রবিদরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীতে ধনতেরাস পালন করা হয়ে থাকে। এবছরও একইভাবে নিয়ম পালিত হবে। ধনতেরাসের জন্য অনেকেই আগামপ্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে আরও জানানো হয়েছে,ধনতেরাস দিওয়ালির একদিন আগে পালিত হয়। এই দিন ধনদেবীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। এই ক্ষণকে শুভ হিসেবে মানা হয়ে থাকে। অন্যদিকে প্রচলিত রয়েছে-সোনা, রূপার গয়না, পাত্র, বাসন, কয়েন কেনাকে শুভ হিসাবে মানা হয়ে থাকে। এই সময় সোনা, রূপা বা পিতল কিনলে সারা বছর ঘরে লক্ষ্মী বসবাস করেন বলেও মানা হয়ে থাকে। এই বছর ধনতেরাস ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। ওই দিন কালীপুজোওপড়ছে। পুরোহিত বা শাস্ত্রবিদদের আরও বক্তব্য,ধনতেরাসের জন্য পুজোর সব থেকে উপযুক্ত বা শুভ সময় হল সন্ধ্যেবেলা। এবার সন্ধ্যে ৫-২৮মিনিট থেকে ৫-৫৯ মিনিট পর্যন্ত সব থেকে শুভ সময়। এই সময়ে ধনদেবীর পুজো করলে শুভফল লাভ হবে। তবে এই ৩০ মিনিটেই সেরে নিতে হবে পুজো।
সাধারণভাবে আমরা জানি,এই ক্ষেত্রে ধনদেবী ও কুবেরের আরাধনা করা হয়ে থাকে। বড় অংশের মানুষ মনে করেন, গৃহে শান্তি ও টাকা পয়সা বৃদ্ধির জন্যই করা হয়ে থাকে এই পুজো। অনেকে বলে থাকেন,এই দিন সমুদ্র মন্থনের সময় হাতে সোনার কলস নিয়ে ধনদেবীর জন্ম হয় সমুদ্র থেকে। আবার ধনতেরাসে এইসব ধাতু কেনা নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা কথা-কাহিনী। এক পক্ষ বলে থাকেন,ধনদেবতা কুবেরের আরাধনায় এই ধনতেরাস উদযাপিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে রাজা হিমের পুত্রকে বিয়ের চতুর্থ দিন যমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নববধূ একটা অভিনব উপায় বের করেছিলেন। প্রচুর ধনরত্ন, সোনা-রূপো, বাসনপত্র আর প্রদীপ দিয়ে ঘরের দরজা ঘিরে রেখেছিলেন।প্রদীপের আলোয় প্রচুর ধাতুর জৌলুসে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল যমেরও । দিকভ্রষ্ট হয়ে যান যমরাজ। যমের হাত থেকে বেঁচে যান রাজা হিমের পুত্র। এরপরই ধনতেরাসের বিশেষ দিনে শুরু হয়ে যায় সোনা-রূপো-সহ ধাতু কেনার প্রচলন। এরপরও রয়েছে আরও নানা কাহিনী ৷ দুর্বাশা মুনির অভিশাপে স্বর্গ হয়ে পড়ে লক্ষ্মীহীন। রাক্ষসদের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সমুদ্রমন্থনের পর ধনতেরাসেই দেবতারা ফিরে পেয়েছিলেন লক্ষ্মীকে। সেই হারিয়ে যাওয়া লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনার উপাসনাকেই বলা হচ্ছে ধনতেরাস।পাশাপাশি ধনতেরাসে শ্রীলক্ষ্মীর আরাধনার মাধ্যমে সূচনা হয়ে থাকে দীপাবলী উৎসবের।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে ছিল না কোনও ‘ধনতেরাস উৎসব’। এখন অবাঙালিদের ধনত্রয়োদশী উৎসবকে আপন করে নিয়েছে বাঙালিও । ভারতীয় শাস্ত্র মতে বলা হয়েছে, দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়ে থাকে এই ধনতেরাসের হাত ধরে। অশুভ শক্তি বিনাশের জন্য ধাতু কিনে প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয় ধনদেবীর আরাধনা।

Related posts

Leave a Comment