আজকের সমাজে স্বাবলম্বীর পথে নারীরা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : স্বাবলম্বী হওয়ার পথে নারী। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামী-সন্তান ও সংসার নিয়ে জীবনযাপন করার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নাজেহাল বহু নারী। অনেকেই ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে পোশাক তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। হোলসেল মার্কেটে বিক্রি করার বন্দোবস্তও করতে হয়। ব্যবসা বাড়ানোর তাগিদে অনেক নারীই কয়েক দফায় ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে থাকেন।
এই অবস্থায় ব্যবসা বেড়েছে অনেক মহিলারই। অনেকেই এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। মহিলাদের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলিকে উন্নত করার জন্য টাকা ও ঋণ দিয়ে সাহায্য করছে ‘ভিলেজ ফিনানসিয়াল সার্ভিস’ (ভিএফএস)-এর মতো ক্ষুদ্র ঋণ-প্রদানকারী সংস্থা। করোনা আবহে রোজগারহীন হয়ে পড়ে অনেক সংসার। ওই সময় বাড়ির মহিলাদের ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে নিজস্ব ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে ভিএফএস।
এক্ষেত্রে শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, ঋণের টাকা কীভাবে ব্যবহার করলে ব্যবসা বাড়বে এবং ঋণও পরিশোধ করা সম্ভব হবে, সেই পরামর্শও দিয়ে চলেছে ওই সংস্থা। ঋণ নিয়ে নিজের সংসারে সচ্ছলতা আনার বিষয়টি রয়েছে। নিজস্ব কিছু করার ভাবনা অনেক নারীর মধ্যেই দেখা যায়। অনেক ভাবনা-চিন্তার পর অনেকেই নেমে পড়েন রোজগারে। ছোটদের জামা-কাপড় বানানোর ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন বহু নারী। এরপর ভিএফএস-এর থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।
পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মহিলাদের নিয়ে কাজ করছে বন্ধন ব্যাঙ্ক। এক্ষেত্রে নারীদের দৈনন্দিন রোজগারের একটা পথ তৈরি করে দেওয়াই এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে, মূলধন হিসেবে কোনও দোকান শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল জাতীয় গৃহপালিত পশুপাখি কিনে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মহিলা মহলে তাঁদের ব্যবসার তাগিদে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। ব্যবসা করে যাতে তাঁরা উন্নত জীবনযাপন করতে পারেন তারই চেষ্টা অব্যাহত থাকে।
উল্লেখ করা যায়, এখনও পর্যন্ত দেশের ১,১৮,১২১ জন মহিলা এই মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা সমাজের মূল স্রোতেও চলে এসেছে। এই সংখ্যার মধ্যে ৫৪ হাজারই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও সচেতনতা সংক্রান্ত কাজও করছে বন্ধন ব্যাঙ্ক। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, গর্ভবতী মহিলা, সদ্য মা হওয়া মহিলা ও শিশু-কন্যাদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়াও হয়ে থাকে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকার উৎসাহী মহিলাদের বেছে নিয়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিয়ে স্বাস্থ্য সহায়িকা হিসেবে কাজে নিযুক্ত করা হয়ে থাকে। ওইসব নারীরা নিয়মিত গ্রামের মহিলাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত শিক্ষা দিয়েও থাকে। আবার গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক ও পুষ্টিগত দিকগুলিও নজরে রাখা হয়। প্রয়োজন ভিত্তিক বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে। ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন বলে খবর।

