দেশের অর্থনীতি আগামী বছরেই ঘুরে দাঁড়ানর সম্ভাবনা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ ব্যবসা ও শিল্পউৎপাদন আগামী অর্থবছরেই স্বাভাবিক হতে চলেছে। সেই সূত্র ধরেই ভারতীয় অর্থনীতির হাল ফিরবে, এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেল বণিকসভা সিআইআইয়ের সমীক্ষায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ছোট, বড় ও মাঝারি প্রায় ১৫০ টির মত শিল্পসংস্থার উপর সমীক্ষা চালিয়ে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছিল যে, ব্যবসা বা শিল্পোৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক করা নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পসংস্থাগুলি কতটা আত্মবিশ্বাসী। এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, লকডাউনের পর বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কলকারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ব্যবসায়ী ও শিল্পউদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়েছে। যা আগের ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) এই সূচক সব থেকে নিচে নেমে গিয়েছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে শিল্পউৎপাদনের উর্দ্ধগতি এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ভারতীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাচ্ছে। অর্থনীতির এই সেরে ওঠাকে দ্রুত করতে হলে সরকারকে ছোট ও মাঝারি শিল্পসংস্থার বিভিন্ন সঙ্কটের মুহূর্তে পাশে থাকতে হবে।
এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে লকডাউনের সময় ‘বিজনেস কনফিডেন্স ইন্ডেক্স’ প্রায় ৪১ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। পরে আনলকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ওই সূচক আবার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫০পয়েন্ট। শিল্পউদ্যোক্তাদের এই আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যাশা সূচকে ৪৫% বৃদ্ধি। প্রত্যাশা সূচক বৃদ্ধি পেলেও এই পরিস্থিতি নিয়ে সিআইআই যথেষ্ট আশার আলো দেখতে পারছেন না। সমীক্ষায় বর্তমান পরিস্থিতি লকডাউন সময়কালের মতোই প্রায় ৪১ পয়েন্টে রয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তাঁদের অর্ধেকই জানিয়েছে, নতুন অর্ডার পাওয়া ও বিক্রি চলতি ত্রৈমাসিকে আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন শিল্পগুলিতেও এখন উৎপাদন দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছে এবং এটা আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই সংস্থাগুলি মনে করছে। বেশিরভাগ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকেও তাঁরা লাভের আশা করছেন না। পরবর্তী ৬ মাসে বাজারে ক্রেতা চাহিদা ফেরানোকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তাঁরা। তাঁদের ধারণা, আগামী বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

