সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণে সাফল্য এনেছে ‘জিয়ো-জুট’ পদ্ধতি
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ম্যানগ্রোভ রোপণে ‘জিয়ো-জুট’ পদ্ধতি বিশেষ সাড়া ফেলেছে সুন্দরবনে। স্থানীয় সূত্রের খবর, আম্ফান ঝড়ের তাণ্ডবে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে বাঁচানোর জন্য সরকার ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে দ্রুত ম্যানগ্রোভ রোপণে সাফল্য এনে দিয়েছে ‘জিয়ো-জুট’ পদ্ধতি। প্রসঙ্গত, পরিবেশ-বান্ধব এই পদ্ধতি সুন্দরবনে প্রথম। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, ম্যানগ্রোভ চারা তৈরি করতে সেখানে প্লাস্টিকের ঠোঙা ব্যবহার করা হচ্ছিল। এক্ষেত্রে চারার বৃদ্ধি কম ঘটছিল।
এবার চটের তৈরি প্যাকেট বা জিয়ো-জুট ব্যবহার করে সুন্দরবনে সাফল্য মিলেছে। স্বল্প সময়েই গাছের বৃদ্ধি ঘটেছে দ্বিগুণ পরিমাণ। এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনও। উল্লেখ্য, প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে সুন্দরবন দূষিত হচ্ছে। সেকথা ভেবেই জিয়ো-জুটের মাধ্যমে নদীবাঁধের চরে সাম্প্রতিককালে ম্যানগ্রোভ চারা তৈরির কাজ শুরু হয়। সাফল্যও পাওয়া গিয়েছে। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, চটের প্যাকেটে তৈরি চারা সরাসরি তুলে চট-সহ বসিয়ে দিতে হবে। এরপর চট পচে গিয়ে গাছের সার হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। সেক্ষেত্রে গাছ স্বাস্থ্যকর হবে ও দ্রুত বৃদ্ধি ঘটবে। জিয়ো-জুটের প্রসঙ্গে সুন্দরবনের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ইকো-ফ্রেন্ডলি গ্রিন নার্সারি বা জিয়ো-জুট ব্যবহার করে ম্যানগ্রোভ নার্সারি করানো হয়েছে।
এক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সফল হওয়া সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্লাস্টিক পটে চারা তৈরি হত। রোপণযোগ্য চারা তৈরি করতে সময় ব্যয় হত ৬ মাস। পরীক্ষামূলকভাবে দেখা গিয়েছে, জিয়ো-জুটে তৈরি চারা এক মাসের মধ্যেই রোপণের উপযুক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এই চারা হয়ে ওঠে সুস্থ ও সবল। বৃদ্ধিও ভাল হয়ে থাকে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ক্যানিং-১ নম্বর ব্লকের নিকারিঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মাতলা নদীর চর, গোসাবা ব্লকের রাঙাবেলিয়া ও ছোটমোল্লাখালিতে এই ‘জিয়ো-জুট’ ব্যবহারের মাধ্যমে স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই চারাগাছ তৈরির কাজ করছেন। এখন সুন্দরী, গরান, গর্জন, ধুঁধুল, কেওড়া, ওড়া, তোড়া এবং বাইন গাছের চারা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দুটি ব্লকে ‘জিয়ো-জুট’ প্যাকেটে প্রায় ৫ লক্ষ চারা তৈরিও করা হয়েছে।

