কিডনি সুস্থ রাখতে প্রয়োজন জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ শরীরকে সুস্থ রাখতে কিডনি সুস্থ রাখা দরকার। কিডনির অবস্থা ঠিক থাকলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এই অঙ্গটি মানবদেহে ফিল্টার হিসাবেও কাজ করে। তাই এটিকে সুস্থ রাখার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করলেই স্বাস্থ্যকর রাখা যায় কিডনিকে। এইজন্য শরীরকে সবসময় হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন। তাই অনেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে যেমন কম জল পান করা ঠিক নয় তেমনই বেশি পরিমাণে জল পান করা কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনকও হতে পারে। কিডনি বিকল হয়ে গেলে অতিরিক্ত জলের পরিমাণও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, দিনে অন্তত ৮ গ্লাস জল পান করা স্বাভাবিক, যাতে প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ বা বর্ণহীন থাকে।
কিডনি ভাল রাখার জন্য একটি ভাল ডায়েটের প্রয়োজন। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রোগ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং স্বাস্থ্যকর এবং কম সোডিয়াম, কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শারীরিক অনুশীলনের কোনও বিকল্প নেই। তাই শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত অনুশীলন করার প্রয়োজন। ওজন, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে শারীরিক অনুশীলনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি রক্তের ক্ষতিকারক এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি ফিল্টার করে কাজ করে। কিডনি অ্যালকোহল, ড্রাগস ইত্যাদির ক্ষেত্রেও ফিল্টার হিসাবে কাজ করে, তাই খুব বেশি ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
এছাড়াও অ্যালকোহল গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। প্রত্যেকের শরীরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কারও কিডনির রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ডায়াবেটিস, বিশেষত উচ্চ রক্তচাপে কিডনি খারাপ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও যারা ধূমপান করেন এবং প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করেন তাঁদের হৃদরোগ বা স্থূল হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কিডনি রোগ সহজে বোঝা যায় না। এটি নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে। লক্ষণগুলি বোঝার আগে কিডনির প্রায় ৯০ শতাংশ খারাপ হয়ে যায়। তাই কিডনি সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হওয়া দরকার। নিয়মিত কিডনির অবস্থা পরীক্ষা করাও প্রয়োজন।

