পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পৃথিবী পরিক্রমা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা। সব থেকে কম সময়ে পৃথিবীর ১৯৪টি সার্বভৌম দেশ ভ্রমণের রেকর্ড তাঁর দখলে। পাশাপাশি স্বীকৃতি পেয়েছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের। ভূ-পর্যটক কাশী সমাদ্দার পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চলছে তাঁর পৃথিবী পরিক্রমা। উল্লেখ করা যায়, ২০০২ সালে শুরু হয়েছিল তাঁর বিশ্ব ভ্রমণ। ২০০৯ সালের মধ্যেই পরিক্রমা করেছেন ১৯৪টি দেশ। এরপরও থেমে থাকেননি তিনি।
সূত্রের খবর, বিশ্বের উষ্ণায়ন থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের ব্যবহার- পরিবেশের এমন বিভিন্ন সমস্যা তাঁকে প্রতিনিয়ত উদ্বিগ্ন করেছে। এই পৃথিবীর অনেক এলাকার পরিবেশই এখন ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। ধ্বংসের সেই প্রক্রিয়া মানবসভ্যতাকে একদিন নিশ্চিহ্ন করে দেবে বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন। এই ভাবনার সূত্রেই মানুষকে সচেতন করতে পথে নেমেছেন তিনি। এক্ষেত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে তিনি পাড়ি দিয়েছেন সেই সব দেশে, যেখানে পরিবেশ সব থেকে বেশি বিপন্ন।
এ বিষয়ে আরও জানা যায়, এমন একটি দেশ টুভলু, যেখানে প্রথমে যান তিনি। প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত এই দেশ পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশগুলির মধ্যে চতুর্থ। সমুদ্রে ঘেরা ওই দেশের সৈকত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ওই দেশটি সমুদ্রের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বেড়ে যাচ্ছে জলের উচ্চতা। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ বছরের মধ্যে টুভলুর কোনও চিহ্ন থাকবে না। প্রশান্ত মহাসাগরের অতল গহ্বরে অদৃশ্য হয়ে যাবে দেশটি।
এরপর বারমুড়া, গ্রিনল্যান্ড, মায়ানমার, ফারাও আইল্যান্ড, গুয়াম, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, হাওয়াই, আইল অব ম্যান, টোঙ্গা, জাঞ্জিবার ও তিব্বত-সহ পৃথিবীর অনেক দেশে গিয়েছেন তিনি। আবার বাংলাদেশের সুন্দরবন ও ভারতের লাক্ষাদ্বীপের বাঙ্গারামেও যান তিনি। তাঁর সফর শেষ হয়েছে গত বছরের ২৫ অক্টোবর। পৃথিবীর সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড জায়গা মেঘালয়ের মৌসিনরামে শেষ হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, করোনা আবহে দেশে দেশে যাওয়া বন্ধ হয়নি। স্বাস্থ্য-বিধি মেনেই সর্বত্র ঘুরেছি। অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ‘গো গ্রিন ব্রিদ ক্লিন’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিবেশের স্বার্থে ১৪ বছর ধরে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, পরিবেশ থেকে কার্বন কমানো, জল ও মাটির তলা দিয়ে আরও বেশি করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক ব্যবহার করা, জল ও বিদ্যুৎ বাঁচানো-সহ বিষয়গুলি দেশে দেশে গিয়ে বার বার বলেছেন। কলকাতার বাসিন্দা এই ভূ-পর্যটক পেশাগত কারণে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই, চিন ও ইউরোপে। তাঁর বর্তমান ঠিকানা দিল্লি। গোটা পৃথিবীকেই নিজের ঘর বলে মনে করেন ওই ভূ-পর্যটক।

