আজও চিরস্মরণীয় একটি নাম -কল্পনা চাওলা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ভারতের গর্ব কল্পনা চাওলা। মহাশূন্যের পথিক। জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁকে। ১৯৬২ সালে হরিয়ানার কর্নেলে জন্ম হয় তাঁর। আজকের দিনে জন্মেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা। তাঁর নেতৃত্বেই মহাকাশ জয়ের স্বাদ। নাসার হাত ধরে এসটি এস-৮৭-তে চেপে ১৯৯৭ সালে প্রথমবার মহাকাশ যাত্রা করেন তিনি। যথা সময়ে ফিরে এসেছিলেন। ২০০৩ সালে আবার মহাকাশ জয়ের জন্য এসটি এস-১০৭-এর যাত্রী হয়েছিলেন। তবে পৃথিবীতে আর ফেরা হয়নি কল্পনার। ১৭ বছর হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববাসীর হৃদয়ে আজও চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে একটি নাম -কল্পনা চাওলা।
চার ভাই-বোনের মধ্যে কল্পনা ছিলেন ছোট। পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর ১৯৮২ সালে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে নাসাতে যোগ দিয়েছিলেন কল্পনা। ১৯৯৫ সালে নাসার মহাকাশযাত্রীদের কোর টিমের সদস্যও হয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালের ১৯ নভেম্বর। প্রথমবার মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন কল্পনা। তিনিই প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সময় কল্পনার বয়স ছিল ৩৫ বছর। কলম্বিয়া এসটি এস-৮৭ মহাকাশযানে চড়ে ১.০৪ কোটি মাইল পাড়ি দেন । ৩৭২ ঘণ্টা মহাকাশে থেকেছেন কল্পনা ও তাঁর সঙ্গীরা।
২০০১ সালে দ্বিতীয়বার কলম্বিয়া স্পেস শাটলএসটি এস-১০৭ এর মহাকাশচারীদের তালিকায় তাঁর নাম নির্বাচিত হয়। ২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। মহাকাশ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময়ে কলম্বিয়া স্পেস শাটল এসটি এস-১০৭তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। ল্যান্ডিংয়ে তখনও ১৬ মিনিট বাকি। ওই সময়ে এক দুর্ঘটনায় কল্পনা-সহ বাকিদের মৃত্যু হয়। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে কল্পনা-সহ ছয় সঙ্গী আকাশেই হারিয়ে যান। সেই মহাকাশযানের ধংসাবশেষ ও যাত্রীদের দেহাবশেষ টেক্সাসে পাওয়া গিয়েছিল বলে খবর। গোটা বিশ্ব থমকে গিয়েছিল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ।
তাঁর স্মরণে ২০০৩ সালে মেটেরোলজিকাল স্যাটেলাইট সিরিজ -এর নতুন করে নামকরণ করা হলে নাম দেওয়া হয় কল্পনা। তাঁর নামে একটি স্পেসস্টেশনের নামকরণ করা হয়। আবার অ্যারোস্পেস সংস্থা নর্থরোপ গ্রুমেন কর্পোরেশন তাদের স্পেসক্রাফ্ট-এর নামকরণ করে কল্পনার নামে।২০০৪ সালে কর্নাটক সরকারের পক্ষ থেকে মহিলা বিজ্ঞানীদের জন্য কল্পনা চাওলা অ্যাওয়ার্ড চালু হয়। এছাড়া কল্পনার নামে একাধিক স্কলারশিপ, রাস্তা , বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করবেন ।

