জীবাণুসার প্রয়োগের ফলে ১০-১৫% ফলন বাড়ার সম্ভাবনা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ কৃষি আধিকারিকদের মত, ভাল ফলন পেতে মাটিতে জীবাণুসার প্রয়োগ করা জরুরী। তাঁদের মতে, সঠিক সময়ে এবং প্রস্তাবিত মাত্রায় জীবাণুসার প্রয়োগ করে ফলন ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃষি বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, জীবাণু প্রয়োগের ফলে মাটিতে বাসকারী উপকারী জীবাণুর সংখ্যা এবং তাদের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি পায়। ফলস্বরূপ, মাটিতে আরও নাইট্রোজেন এবং কার্বন যোগ হয়। এছাড়াও জৈব নাইট্রোজেন, মাটিতে অদ্রবণীয় ফসফেট এবং পটাশ ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। ফলস্বরূপ, কম খরচে উদ্ভিদের সুষম খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব। একদিকে, এটি চাষের ব্যয় হ্রাস করে। এছাড়া রাসায়নিক সারের ব্যবহারও হ্রাস করা যায়। পাশাপাশি ফসলে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।
কৃষকরা নিজেরাই এই জীবাণুসার তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণেরও সুযোগ রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন ২৫- ৫০শতাংশ জীবাণুসার যে কোনও ফসলের নাইট্রোজেন সারের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তদুপরি অতিরিক্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে জমির ক্ষতি হচ্ছে। মাটি বন্ধ্যা হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে জীবাণুসার নতুন করে কৃষকদের পথ দেখাতে পারে। এই সার তৈরি করে বাড়তি অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রামের বেকার যুবকরাও এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখতে পারে। শাকসবজি চাষে জীবাণুসার প্রয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। কৃষকদের বলা হচ্ছে যে, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে উপকারী জীবাণুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এই ক্ষতি রোধ করার জন্য, রাসায়নিক সার প্রয়োগ কমিয়ে জীবাণুসার ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, জীবাণুসার কেনার সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। তাদের মধ্যে প্রধান, যে কোনও ফসলের ক্ষেত্রে সেই সার প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও কখন জীবাণুসার তৈরি হয়েছিল। কতক্ষণ তার কার্যকারিতা স্থায়ী হবে। এক কেজি অ্যাজোটোব্যাক্টর, এক কেজি ফসফোব্যাক্টর, এক কুইন্টাল জৈব সার একসঙ্গে মিশিয়ে এক সপ্তাহের জন্য ফেলে রাখতে হবে। তারপরে প্রথম চাষের সময় এক বিঘা জমিতে মিশ্রণটি প্রয়োগ করতে হবে। জীবাণুসার প্রয়োগের এক সপ্তাহ আগে বা তার পরে রাসায়নিক সার দেওয়া উচিত নয়। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন যে, বীজগুলিকে থাইরয়েড বা পারদযুক্ত রাসায়নিক দিয়ে শোধন করা হলে রাইজোবিয়াম জীবাণু মারা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রাইজোবিয়ামের স্তর দ্বিগুণ করা উচিত। তবে কার্বেনডাজিম বা মানকোজেব দিয়ে বীজ শুদ্ধ করার ফলে রাইজোবিয়ামের কোনও ক্ষতি হয় না।

