শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : শরীরকে সুস্থ রাখতে কী কী ব্যায়াম করা উচিত তা জানাটা বিশেষ জরুরি। সুস্থ থাকার জন্য বেছে নিতে হবে বেশ কয়েকটি শরীর চর্চার বিষয়। এবারে কী কী ব্যায়াম করা স্বাস্থ্য সম্মত তা জানানো হল – প্রাণায়াম কপালভাতি : পদ্মাসন বা সুখাসন – যে কোনও একটি আসনে বসতে হবে। এক্ষেত্রে মাথা ও মেরুদন্ড দুই-ই সোজা রাখা জরুরি। আবার দুই হাতকে জ্ঞান বা চিন মুদ্রার ভঙ্গিতে রাখতে হবে। স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়া দরকার। এই প্রাণায়ামে দ্রুত শ্বাস নেওয়া ও শ্বাস ছাড়তে হয়। এই পদ্ধতিতে স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে। অনুলোম-বিলোম : অনুলোমের ক্ষেত্রে একদিকের নাক বন্ধ করতে হবে। প্রথমে ডানদিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে বাঁ দিক দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা ছাড়ার কাজ করা দরকার। এরপর বাঁ দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে শ্বাস গ্রহণ ও বর্জনের অভ্যেস করতে হবে। বিলোমের ক্ষেত্রে দুই নাক দিয়েই একই সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস নেওয়া প্রয়োজন। তবে এই দু’টি তিন ধাপে করতে হবে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রথমে কিছুটা শ্বাস নিয়ে দু’সেকেন্ড থামতে হবে। এরপর আবার শ্বাস নিতে হবে। পরবর্তীতে স্বল্প সময় থেমে শেষ পর্যায়ে পুরো শ্বাস নিতে হবে।
অ্যারোবিক্স : হাঁটা, জগিং, সাঁতার, সাইকেল চালানো, নাচ প্রভৃতি ব্যায়াম ও অ্যারোবিক্স এক্সারসাইজ করলেও হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাড়ে হার্ট রেটও। সময় নিয়ে আধঘন্টার মতো শরীর চর্চা করতে পারলে ভালো হয়। তা সম্ভব না হলে সকালে ২০ মিনিট ব্যায়াম করা প্রয়োজন। তবে ব্যায়াম করার পূর্বে দেখতে হবে হাঁটু, কোমর ও গোড়ালির অবস্থা এবং হৃদযন্ত্র ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কেমন। হাড় ও পেশির যত্ন : শরীরের নমনীয়তা বাড়ানোর জন্য হালকা আসন বা স্ট্রেচিং করলে ভালো হয়। আবার হাড় ও পেশি সবল করার জন্য ওয়েট ট্রেনিংয়ের ব্যায়ামগুলো করা যেতে পারে। এছাড়া উস্ট্রাসন, সেতুবন্ধাসন, অর্ধকূর্মাসন, মৎস্যেন্দ্রাসন, অর্ধহস্তাসন সহ আসন করা যেতে পারে।
উস্ট্রাসন : প্রাথমিকভাবে বজ্রাসনে বসে মাটিতে হাঁটু রেখে ধীরে ধীরে বুকটা পিছনের দিকে নিচু করে মেরুদন্ড বাঁকাতে হবে। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পিছনের দিকে শরীর বাঁকিয়ে নেওয়া দরকার। এরপর হাতের তালু পায়ের তালুতে রেখে মাথা পিছন দিকে নামিয়ে আনতে হবে। এরপর ২০ সেকেন্ড ধরে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া দরকার। গোড়ালি ও হাঁটুর ব্যথা থাকলে বা হার্টের সমস্যা থাকলে এই আসন করা যাবে না। সেতুবন্ধাসন : এক্ষেত্রে প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। পরে পা হাঁটুর কাছে ভাজ করে উল্লম্ব অবস্থায় এনে হাত পাশে রেখে মুষ্টিবদ্ধ করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে পিঠ উঁচু করে শরীরকেও উল্লম্ব অবস্থানে আনা দরকার। এক্ষেত্রে স্থির থেকে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে হবে। অর্ধকূর্মাসন : এই ব্যায়ামে হাঁটু ভাজ করে পায়ের পাতার উপর বসতে হবে। এরপর নমস্কারের ভঙ্গিতে হাত দুটি সোজা করে ওপরে তুলে জোড়া করুন। এই সময় হাত যেন কানের সঙ্গে লেগে থাকে। তারপর সামনে ঝুঁকে প্রণাম করতে হবে। পেট ও বুক ঊরুর সঙ্গে এবং কপাল মাটিতে লেগে থাকবে। এই সময় নিতম্ব গোড়ালির সঙ্গে লেগে থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।

