স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় কিছু দাওয়াই
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : স্বাস্থ্য ফিরে পেতে কী করবেন, সেই পরামর্শই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, ৩টি কারণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তাহলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ থাকা সম্ভব। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, খাদ্যভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। শরীর সুস্থ রাখতে শাক-সব্জি খাদ্য তালিকায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শাক-সব্জিতে গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে। শাক-সব্জি থেকেই পাওয়া যায় শরীরের পক্ষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন। যেমন- ভিটামিন- সি, এ, ই, কে, বি কমপ্লেক্স ও খনিজ। এছাড়া আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক রয়েছে।
ভিটামিনও খনিজের ঘাটতি থাকলে শরীরে নানা রোগ দেখা দিতে পারে। ভিটামিন- সি-এর অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আবার খনিজ আয়রনের ঘাটতি থাকলে দেখা দেয় রক্তাল্পতা। শাক-সব্জিতে প্রচুর ফাইবার থাকে। ক্যালরির মাত্রাও থাকে কম। বেশি পরিমাণে সব্জি খেলে এই সবের উপশম ঘটে। অন্যদিকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যে থাকে প্রচুর ক্যালরি। যা দেহে ফ্যাটের মাত্রা বাড়ায়। ফাইবার প্রধান শাক-সব্জি সব বয়সীদের কনস্টিপেশনের সমস্যাও দূরে রাখে।
এক্ষেত্রে বলা হয়েছে মরশুমি ফলের কথা। ভিটামিন, খনিজ ছাড়াও ফলে থাকে অত্যন্ত জরুরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যালস। এইসব উপাদান বিভিন্ন অসুখ দূর করে। ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিরও প্রতিরোধ করে থাকে। মরশুমি ফলে বিভিন্ন উপাদান থাকে। মরশুমি ফলই হল তাজা ফল। শীতকালে যেমন পাওয়া যায় কমলালেবু বা আপেল। আবার গ্রীষ্মকালে খেতে হবে আম, লিচু ও পেয়ারা। দেহে চর্বি জমা একটি সমস্যা। শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা থাকে দেহের অভ্যন্তরীণ নানা অঙ্গে। উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লিভার, প্যাংক্রিয়াস ও হার্ট-এর কথা উল্লেখ করেছেন। এই ধরনের ফ্যাটকে এক্টোপিক ফ্যাট বলা হয়ে থাকে। ভুঁড়ি এক্টোপিক ফ্যাট-এর উদাহরণ। এই ফ্যাট থেকে এক ধরনের রাসায়নিক নির্গত হয় যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। ডায়াবেটিস হওয়ার পিছনেও ভিসেরাল ফ্যাট বা এক্টোপিক ফ্যাটের যথেষ্ট ভূমিকা থাকে। দেহের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে বিঘ্নিত করে থাকে এক্টোপিক ফ্যাট।
এক্ষেত্রে শরীরে দেখা দেয় নানা অসুখ। ফ্যাটি লিভারের কথাও বলা হয়ে থাকে। শরীর সুস্থ রাখতে হলে ডায়েটে রাখতে হবে প্রোটিন ও ফাইবার জাতীয় খাদ্য। শরীরচর্চা- ব্রাশ করা, চা খাওয়া ও খবরের কাগজ পড়ার মতোই শরীরচর্চাকেও রোজকার জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানো সবার হয় না। কমবয়সিরা ঘরে বসেই ডন বৈঠক অভ্যেস করতে পারেন। করা যেতে পারে স্কিপিং। জগিং করাও যেতে পারে।
কর্মব্যস্ত মানুষেরা স্নানে যাওয়ার আগে ১৫-২০ মিনিট ঘাম ঝরাতে পারেন ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামের মাধ্যমে। সারাদিনে প্রায় কিছুটা সময় দ্রুত হাঁটলেও কাজ হবে। সব বয়সের মানুষই শরীরচর্চা করতে পারেন। শরীরচর্চায় মাংস পেশিগুলি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি পদার্থ নিঃসরণ করে। পাশাপাশি রক্তের শর্করা, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। আবার শরীরচর্চায় এন্ডোর্ফিন নামে হরমোনের ক্ষরণ হয় যা সুস্থ-সতেজ রাখে। অবসাদ দূর হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ বিষয়ে আরও জানান, মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ায় শরীরচর্চা। শরীরচর্চায় শরীরের প্রতিটি কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। এরফলে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে। শরীরচর্চায় বাড়ে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা। উল্লেখ করা যায়, বাচ্চাদের জন্মের পর ৬ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারীভাবে বেশ কতকগুলি টিকা দেওয়া হয় বিনামূল্যে। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে টিকার গুরুত্ব রয়েছে। ট্রিপল অ্যান্টিজেন বা ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশির প্রতিরোধের টিকার কারণে শিশুদের অকাল প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়ে থাকে।
অন্যদিকে হেপাটাইটিস, নিউমোনিয়া, চিকেন পক্স-এর মতো ভ্যাকসিন অসুখের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। আবার রুখে দেওয়া সম্ভব হয় মহিলাদের সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকেও। অসুখ প্রতিরোধ করতে পারে এইচপিভি ভ্যাকসিন। ১০-১৪ বছরের কিশোরীদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ফ্লু ভ্যাকসিন, নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন, টিডিএপি, হেপাটাইটিস বি, চিকেন পক্স, হারপিস জস্টারের ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলি মেনে চলতে হবে। খাওয়ার আগে প্রতিবার ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান-জল দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যেস করতে হবে। করোনা-সহ বিভিন্ন সংক্রমণ রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। টয়লেট যাওয়ার আগে-পরে একই অভ্যেস রাখতে হবে। বাড়ি থেকে বাইরে বেরনোর সময় মুখে মাস্ক পরার অভ্যেস গড়ে তুলতেই হবে।

