দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জন্ম সার্ধশতবর্ষ
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার পটলডাঙা স্ট্রিটে তাঁর জন্ম হয়। নিঃশব্দে অতিক্রান্ত হল দেশবন্ধুর জন্ম সার্ধশতবর্ষ। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছিলেন ১৮৯০ সালে। ওই বছরেই লন্ডন যান উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য। ১৮৯৪ সালে ব্যারিস্টার হয়ে ফিরে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৮৯৭ সালের ৩ ডিসেম্বর ব্রাহ্ম ধর্মের আচার মেনে বিয়ে হয় চিত্তরঞ্জন দাশের সঙ্গে বাসন্তী দেবীর।
সেইসময় উদারপন্থী শিক্ষিত ব্রাহ্ম সমাজকেও অযৌক্তিক গোঁড়ামির পথে হাঁটতে হয়েছিল। চিত্তরঞ্জন বুঝেছিলেন, সংস্কারমুক্ত মনের প্রসার ও প্রচার দরকার। উদারমন ও স্বাধীন সমাজ গঠনের ব্রত নিলেন। দারিদ্র্যের সঙ্গে ধুলোমাখা পথে তাঁর চলা শুরু হল। ঋণভারে জর্জরিত পিতাকে দেখতে হয়েছিল। পরের উপকার করতে গিয়ে ঋণভারে জর্জরিত হতে হয়েছিল। সংসারের অসচ্ছলতার বোঝাও কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল। এরপর শুরু করেছিলেন আইনজীবীর কাজ।
সাময়িক সিটি কলেজের ল-লেকচারার হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। পারিশ্রমিকের জন্য তাঁকে মফস্সলের কোর্টেও সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তরুণ চিত্তরঞ্জন কাঁধে তুলে নিয়েছেন সংসারের দায়িত্বভার। সাহিত্য সৃষ্টিও জমে ওঠে মনের কোণে। লিখেছেন কবিতাও। প্রকাশ হয়েছে- ‘সাহিত্য’, ‘নির্মাল্য’ ও ‘মানসী’ প্রভৃতি পত্রিকায়। ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘মালঞ্চ’। এই কাব্যগ্রন্থে চিত্তরঞ্জন লিখেছেন ‘ঈশ্বর’ ও ‘বারোবিলাসিনী’ নামে দুটি ব্যতিক্রমী কবিতা।
নানা বিশেষণও জুটেছিল। অন্যদিকে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়লেন তিনি। বিভিন্ন অসম্মান নীরবে সহ্য করে লড়াই করেছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে। লড়াই করেছেন দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেও। দেশকে স্বাধীন করার লড়াই ছিল তখন প্রধান। ওই সময় বাংলা উত্তাল হয়ে উঠে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর গান ও রাখীবন্ধন উৎসব নিয়ে সামনে এসেছেন।
ওই সময় সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বক্তৃতা করছেন। ওইসব সভায় বক্তৃতা করেছেন চিত্তরঞ্জন। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে ডাকা হয় এক ঐতিহাসিক সভা। সেখানে লোকমান্য তিলক, লালা লাজপত রায়, মদনমোহন মালব্য, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ ঘোষের সঙ্গে ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ। ওই সভা থেকে ডাক দেওয়া হয় স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের। ‘বন্দেমাতরম’ মন্ত্র উচ্চারণে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাংলা। চিত্তরঞ্জন দাশ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন। আবার অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে ওই সময়ে গড়ে উঠছে সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপরেখা।
ওই সময় প্রমথনাথ মিত্র ও অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখের সঙ্গে ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ ‘অনুশীলন সমিতি’ গঠনে। কিংসফোর্ড সাহেবের উপর মুজফ্ফরপুরে বোমা মারা হয়েছিল ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল। দুই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী যুক্ত ছিলেন। প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করেন এবং ক্ষুদিরাম বসু গ্রেফতার হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালের ১৪ মে বাবার সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে চিত্তরঞ্জন মুক্ত হয়েছিলেন। ১৯১৪ সালে তিনি ‘নারায়ণ’ পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। ওই সময় চিত্তরঞ্জনের ৫টি কবিতার বইও প্রকাশ পায়। তাঁর মন্তব্য, এই সমগ্র জীবনের অনুভূতিই সাহিত্য এবং তার জীবন্ত জ্বলন্ত প্রকাশই শ্রেষ্ঠ শিল্পকলা, সেই অনুভূতিই সাহিত্যের রস। চিত্তরঞ্জন দাশের সাহিত্য প্রতিভা নিয়ে আলোচনা বর্তমান সময়ে আর হয় না। ১৯২৫ সালের ১৬ জুন চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু হয়েছিল।

